
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেল অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান। তারা ইরাকের জলসীমায় দুটি তেলের ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ‘এ যুদ্ধে জিতে গেছে’, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এ দাবিকে অবজ্ঞা করে তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ২০০ ডলারের জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ইরান।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের সূচনা করে। তারপর থেকে এই যুদ্ধে প্রায় ২০০০ মানুষ নিহত হয়েছে আর বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও পরিবহন বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ১৯৭০ এর দশকের পর থেকে সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয় সামাল দিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (আইইএ) -কে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকের জলসীমায় থাকা জ্বালানিবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। ইরানের বিস্ফোরক ভর্তি নৌকাগুলো হামলাটি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ হামলায় এক ক্রু সদস্য নিহত হয়েছে।
এর আগে পারস্য উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু আঘাত হানে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, রিস্ক ফার্ম ও বন্দর কর্মকর্তারা।
আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “তেলের ঊধ্র্বমুখি দরের লাগাম টেনে ধরতে ব্যাপক কৌশলগত রিজার্ভ ছাড়ার যে ঘোষণা আইইএ রাতে দিয়েছে ইরান তার সরাসরি ও জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”
ইরান বাহরাইনের মুহাররাক স্থাপনার তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ১১০০ জনেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার কেন্টাকিতে প্রচারণা ধরনের এক সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে কিন্তু ‘প্রতি দুই বছর পরপর ফিরে যেতে চায় না’।
তিনি বলেন, “আমরা আগেভাগেই সরে আসতে চাই না, চাই কি? আমরা কাজটা শেষ করতে চাই।” ট্রাম্প বলেছেন, “আইইএ-র সিদ্ধান্ত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে আর আমরা আমেরিকা ও বিশ্বের প্রতি এই হুমকির অবসান ঘটাবো।”
কিন্তু ইরান অর্থনৈতিক ধাক্কা দীর্ঘায়িত করতে চায়, তাদের এমন উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে করা এক মন্তব্যে বলেছেন, “তেলের ব্যারেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও, কারণ তেলের মূল্য অঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে, যা তোমরা অস্থিতিশীল করেছো।”



