
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সবুজে ঘেরা ভাওয়াল বনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকে শোভা ছড়াচ্ছে বিদেশি ফুল। সড়কের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে এমন ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে কয়েকদিন ধরেই ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। গোলাপি ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন সবাই। অনেকেই ব্যস্ত মহাসড়কে মৃত্যুঝুঁকি নিয়েও টিকটক ভিডিও বানাচ্ছেন।
দ্রুত গতির বেপরোয়া যানবাহনের কবলে পরে আগত দর্শনার্থীরা যে কোন মুহুর্তে প্রাণ হারাতে পারে। শত শত মানষের এমন অবাধ বিচরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আতঙ্কে রয়েছে। তাই ব্যস্ত এই সড়কে মানুষের অবাধ বিচরণ ঠেকাতে ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের রাজেন্দ্রপুর, মাস্টারবাড়ি এলাকায় দেখা গেছে, ভাওয়ালের শাল-গজারি বনের বুকে সড়ক বিভাজকে ফুটেছে বিদেশি নানা রঙের ফুল। দেখে মনে হয় এ পথে চলাচলকারীদের যেন অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে। ফুলের এমন সৌন্দর্য্যে অনেক পথচারীরাই হুটহাট এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ছে। অনেকে আকৃষ্ট হয়ে গাড়ি থামিয়েই ফুলের সঙ্গে তুলছেন ছবি, বানাচ্ছেন টিকটক ভিডিও। এদিকে সড়কের দুই পাশেই বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলছে যানবাহন। এসব যানবাহণ উপেক্ষা করেই প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের এমন ছুটোছুটি অনেকটাই মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এদিকে সড়কে চলাচলরত দ্রুত গতির যানবাহনগুলোও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ছে। দলবেধে যখন মানুষে ছবি তোলা বা ভিডিও করতে মগ্ন তখন অনেক যানবাহনের গতিরোধ হয়ে যাচ্ছে। সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতার।
গাজীপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান বলেন, সড়কের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি বিভাজকে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোগা টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠ বাদাম, জারুল, রক্ত করবী ও জাপানি চেরী গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা গাছের চারা রোপন করা হয়েছিল। তিন-চার বছর আগে পলাশ, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, বাগানবিলাস, কদম, বকুল ও জবা ফুল ফুটে মুগ্ধ করে যাত্রীদের। গত বছর কিছু গাছে অল্প কিছু জাপানি ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুটেছিল। এবার শীত বিদায় নেওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে ওই তিন প্রজাতির ক্যাসিয়া রেনিজেরা ফুটতে শুরু করে। যার ফলে অনেক দর্শনার্থীরা এখানে আসছে ফুল দেখতে। তবে মহাসড়ক যেহেতু কোনো পাবলিক প্লেস না সেহেতু এখানে এভাবে ভিড় জমানো অবাধ ঘুরাফেরা অনিরাপদ। আমরা জনস্বার্থে বলব, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতে কেউ সড়কে গিয়ে টিকটক ভিডিও বা ছবি ধারণ না করে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মেরাজুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের রাজেন্দ্রপুর, মাস্টারবাড়ি এলাকায় মহসড়কে বিদেশি ফুল দেখতে বহু মানুষ আসছে। কিন্তু মহাসড়ক তো ঘুরাফেরার জায়গা না। এখানে দ্রুত গতির যানবাহন চলে। যার কারণে চরম মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে। আমরা বিষয়টি নজরে এনেছি। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে গিয়ে আগত মানুষদের সতর্ক করছে। সড়কে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় ও কোনো প্রাণহানী না হয় তার জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে।



