বৃহস্পতিবার ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertisement Placeholder

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত ট্রেনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত ট্রেনে

ঈদযাত্রায় ট্রেনের যাত্রীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। এবার ভোগান্তি কমাতে চট্টগ্রামে এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন এবং আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হবে। এজন্য জরাজীর্ণ ১২২টি বগি মেরামত করা হচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেলওয়ে মেরামত কারখানায়। সেখানে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, রিপিয়ারিং, ওয়েল্ডিং, রঙ অথবা চাকা মেরামতের কাজ চলছে। পুরোনো বগি মেরামত করে চকচকে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা পূরণে রেলওয়ের বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হবে বগিগুলো।

ঈদ ঘিরে কারখানায় ব্যস্ততা

রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এবার ঈদে বেশি যাত্রী পরিবহনের টার্গেট নিয়েছে রেলওয়ে। প্রতিবার ঈদে ৮০-৯০টি বগি মেরামত করে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করা হলেও এবার জরাজীর্ণ ১২২টি বগি মেরামতের কাজ চলছে। ঈদ ঘিরে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে চলবে এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন এবং আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে লাগবে অতিরিক্ত বগি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে চলে ৯ মার্চ পর্যন্ত। অগ্রিম টিকিটের ঈদযাত্রা ১৩ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ মার্চ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

1773239417834
রিপিয়ারিং, ওয়েল্ডিং, রঙ অথবা চাকা মেরামতের কাজ চলছে

৯২ বগি মেরামত শেষ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করতে হবে ঈদযাত্রার জন্য চলাচল উপযোগী ১২২টি বগি। তাই কর্মব্যস্ত রেলওয়ের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের কর্মপরিকল্পনায় প্রথম পর্যায়ে ১০৫টি বগি মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। পরে আরও ১৭টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২২টি। অবশ্য এরই মধ্যে ৯২টি বগি মেরামত শেষে বহরে যুক্ত করতে ওয়ার্কশপ থেকে শেডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো ঈদের আগেই মেরামত করে রেলের বহরে যুক্ত করা হবে।

পাহাড়তলী কারখানায় কর্মরত শ্রমিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ ঘিরে রেলের পুরোনো বগি সংস্কারের কাজ শুরুর পর থেকে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দম ফেলার সময় নেই। ডিউটির বাইরে আমাদের পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম করতে হয়। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বগি মেরামতকাজ শেষ হয়।’

সর্বোচ্চ টার্গেট

কোচ মেরামত শেষে সরবরাহের জন্য দিনে-রাতে কাজ চলছে বলে জানালেন পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) রাজিব দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘ঈদ ঘিরে ১২২টি কোচ মেরামতের টার্গেট দেওয়া হয়েছে। ৮ মার্চ পর্যন্ত ৯২টি রিলিজ দেওয়া হয়েছে। ১৬ মার্চের মধ্যে বাকিগুলো মেরামত করে যাত্রীদের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া যাবে।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফা জাকির হাসান বলেন, ‘প্রতি ঈদে আমাদের ৮৫ থেকে ৯০টি বগি মেরামতের লক্ষ্য থাকে। এবার সর্বাধিক ১২২টি বগি মেরামতের টার্গেট নিয়েছি আমরা। কাজ শেষ হলে বডি, এরপর ভেতরের ইন্টেরিয়র-ফ্যান, লাইট, এসি সব ঠিক করা হয়। রঙ করে একদম নতুনের মতো করা হয়। যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।’

1773239417869
পুরোনো বগি মেরামত করে চকচকে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা

ইঞ্জিন ও বগির সংকট

ঈদে ৯০টি ইঞ্জিন সচল রাখার চাহিদা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) মো. বেলাল সরকার। তিনি বলেন, ‘আশা করছি ৮৫টির মতো দেওয়া সম্ভব হবে। মেরামতে প্রয়োজনীয় মালামাল আসছে। আশা করছি সব মালামাল হাতে এলে ইঞ্জিন সংকট কেটে যাবে।’

ইঞ্জিন ও বগির সংকটের কথা জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির সংকট আছে। স্বাভাবিক সময়ে ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যে পরিমাণ বগি ও ইঞ্জিন প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে নেই। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ঈদযাত্রায় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত বগি মেরামত করা হচ্ছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে। এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করবে।’

Facebook Comments Box
আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়