চট্টগ্রামবুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন বিচার
  6. আতঙ্ক
  7. আত্মহত্যা
  8. আন্তর্জাতিক
  9. আবহাওয়া বার্তা
  10. ঈদুল আযহা উদযাপন
  11. ঈদুল ফিতর উদযাপন
  12. উন্নয়ন
  13. কক্সবাজার
  14. কৃষি
  15. ক্যাম্পাস
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বর্তমানে দেশে বেসরকারী শিক্ষকগণেরা জাতে পরিণত হতে পেরেছেন কিন্তু পেশায় ও মানের নিয়ন্ত্রিত রয়েই গেছেন – সরওয়ার মোরশেদ (কলাম লেখক)

deshbarta news
এপ্রিল ২৪, ২০২৪ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমানে দেশে বেসরকারী শিক্ষকগণেরা জাতে পরিণত হতে পেরেছেন কিন্তু পেশায় ও মানের নিয়ন্ত্রিত রয়েই গেছেন – সরওয়ার মোরশেদ (কলাম লেখক)

মোঃ আলীহোসেন লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

যে দেশের শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা শতকরা ৯৭% ভাগ বেসরকারী ভাবে চলতে থাকে তার মানে কি দাঁড়ায় ! মোটা দাগে মাষ্টার (প্রভু) থেকে এক কালের লজিং মাষ্টর (যা পেটে ভাতে খাবারের মাষ্টর মাত্র ) এর ন্যয় বেতন না পেয়ে- পেয়ে কষা আইনি বেড়া জালের বোতলে প্রায়বন্দি শিক্ষকগণ বাংলাদেশে ৫৩ বছর ধরেই অনুদানের টাকা খেয়ে-খেয়েই চলছেন । তাদেরকেই বর্তমানের সমাজ , রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জাতি একত্রে জাতের হয়ত পরিণত করতে পেরেছেন । হায়রে আমরা বেসরকারী শিক্ষকগণ ! আজ আমরা জাতে পরিণত হয়েছি কি ! জাতির বিবেক এখন অবশ হয়ে গেছে কি ! জাতির এই নিথর দেহে কখন জ্ঞান ফিরবে কিছুই বলা যাচ্ছে না । অবশ্য সব কিছুরই তো জাত-পাত থেকেই যায় ! শিক্ষকগণকে জাতে পরিনত করে ফেলায় কখনো বা বিবেচনা করতে চাইলে সম্মানিত শব্দটি বলতেও হয়ত সরকারের অনুমতি লাগবে কিনা, জানি না । সরকার মহান পেশার বেসরকারী শিক্ষকগণকে সম্মানিত বলে সম্মোধন করতে চাইবেন কিনা এটা সরকারের একান্ত ভাবার বিষয় । ধরুন, অতীতে কোন সরকারই রাতকে দিন আর দিনকে রাত বলে ভাবিয়ে তুললেই কিছইু কি করার ছিল ! এর মানে হল আপনি বেসরকারী শিক্ষক পেশায় যতই জ্ঞানী ও পাপী হন না কেন ! আপনাকে রাতের বেলায় হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দিলে, আর আপনি রাতের আধাঁরের অস্পষ্ট আলোয় কতদুর যেতে পারবেন ! আপনি রাতের আধাঁরের আলো । আপনি শিক্ষক আপনার রাতের আধাঁরের আলো কতক্ষণ জলবে, আপনার জ্বালানী কতটুকুই বা আছে ! আপনি কতক্ষণ আলো ছড়াতে পারবেন ! আপনার প্রজ্জলনটা ঘন কালো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে বৈকি । তাই দেখুন এবং এই তীব্র গরমে ঘরে ও স্কুলে বসে বসে ভাবুন কিভাবে আমরা সরকারকে বুঝাতে পারি যে, বাংলাদেশের বেসরকারী শিক্ষকদের একটু-একটু করে অর্থের মানে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব !

আমরা গরীব বেসরকারী শিক্ষক,তাই কলাম লিখেতে শুরু করেছি ।ঘঁটনা ঘটে যাওয়ার পর এবং দেশে কথা গুলো বলার পরই এর বিশ্লেষন করি মাত্র । পেশায় বেসরকারী শিক্ষকরা নিধিরাম সরকারের পন্ডিত-উজির,নাজির,খানসামা হয়েই থাকতে চায় নাই । আমাদের টাকা নাই, পয়সা নাই, বহু তলার বাড়ী নাই, গাড়ি কৈ পাই আমরা ! এখন সমাজ নির্মাতাদের এতটা অর্থ সম্পদ বেড়ে গেছে যে , উল্টা সমাজ পতিদেরকেই বেসরকারী শিক্ষকগণকে সালাম ও সম্মান দিতে হচ্ছে । আজ অভিভাবক ও সমাজ পতিদের জমির পরিমান ও মুল্যে প্রতি শতকে কয়েক হাজার গুন বৃদ্ধি পেয়ে গেছে । পেশায় বেসরকারী শিক্ষকদের জীবনের মুল্য কত টুকু বৃদ্ধি পেয়েছে ! শিক্ষকরা এখনও বিপন্ন ! দয়া ,ছদকা, হাদিয়া দিয়ে আমাদেরকে থামিয়ে রাখা হচ্ছে কি ! আমাদের ৯৭%বেসরকারী শিক্ষকদের মধ্যেই আবার ০৭% মোটা ধনী ও বিশেষ সুবিধা ভোগী প্রধানগণদের দ্বারা অপর শিক্ষকগণেরা অনেকে লাঞ্চিত হচ্ছেন ।

ইসলাম ধমের্র পবিত্র কোরআন গ্রন্থটি লাইব্রেরীতে বিক্রি করা যাবে না, হাদিয়া নেওয়া যাবে । অবশ্য এটা বিরাট সম্মানের বিষয় । কিন্তু আদতে ভিতরে কি হচ্ছে, একটি পবিত্র গ্রন্থ উৎপাদনে যত টাকা লাগছে তার চৌদ্দ গুন বেশী হাদিয়া দিয়ে গ্রাহককে পবিত্র গ্রহন্থটি নিতে হচ্ছে । আমরা বেসরকারী শিক্ষকগণেরা মাসিক ভাতাকে বেতন বলতে পারি না ! আমার প্রশ্ন হলো কেন বেতন বলতে পারবো না ? ভাতা বলতে প্রচলিত কর্মের পরেও বিশেষ কাজের বিশেষ অর্থ নেওয়াকে বুঝায় । আমাদের মাসিক প্রাপ্য অনুদানটিকে আমরা কেন বেতনে পরিনত করাতে পাচ্ছি না ? বাংলাদেশ সৃষ্টির আগ থেকে এখন পর্যন্ত শতকরা হারেই অনুদান-দান বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমে ক্রমে পাঁচ লক্ষ শিক্ষককে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে । আসলে আমরা জ্ঞানের বিচরণে বেশি বোঝার পাপিষ্ট পেশায় নিয়োজিত । অনেকে বলবেন আছেন কেন ইস্তফা দিয়ে চলে যান ? তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, প্রতিনিয়ত মৌমাঁছিরা দলগত ভাবেই কঠিন পরিশ্রম করে মধু সংগ্রহ করে রাখছে আর অন্যরা খুব কম পরিশ্রম করেই এক প্রকার জোর করেই নিজের শরীরের বল বৃদ্ধি ও দেহ সুস্থ থাকার জন্য স্বার্থপরের ন্যয় খেয়ে ফেলবেন ! আমরা শীল পাটার কাঁটা কাঁটা ধাঁর ! বিদ্যা পিশিয়ে খাইয়ে খাইয়ে যাচ্ছি !

কেউ-কেউ গুছিয়ে গুছিয়ে পেশায় শিক্ষকদের মেধা হরণ করছেন আর আমাদেরকে উচ্ছিষ্ট অর্থ ও উচ্ছিষ্ট মান নেওয়ার ব্যক্তি হিসেবে রেখেই দিচ্ছেন । সরকারীরা বেতন, ভাতা উৎসব,অন্যান্য মিলে ১৪ আনা অর্থ নিচ্ছেন আর কেবল বাকি ০২ আনা অর্থ বেসরকারী শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ রেখে এক প্রকার জোর করেই হাদিয়ায় ও দয়ার অনুদান দিয়েই আমাদেরকে চালিয়ে নিচ্ছেন । ধর্মেও আছে একজন পুরুষ ১৪ আনা সম্পত্তির মালিক আর তার সহধর্মীনীর জন্য মাত্র ০২ আনা সম্পত্তির রেখে যাওযার পর মালিক হবেন । তাহলে বুঝুন আমরাও কি জাতের ব্যক্তিতে আছি, যে মাত্র ০২ আনা সম্পত্তির আদলেই রাষ্ট্রে শিক্ষা দানের দায়িত্ব নিয়ে জ্ঞান বিক্রির ফেরিওয়ালা হয়ে ১৪ আনা ফ্রিতে মুখে হাসি নিয়ে যেন ব্যবসা করে যাচ্ছি ।

আসল কথা হল, বুঝলেই লজিক দিয়ে সবকিছু আটকে রাখা হচ্ছে, আবার না বোঝার ভান করে থাকলে মেজিক দেখানো হচ্ছে আমাদেরকে ।
পরিস্কার নয়,তবে কথা হলো আমরা ঠকছি কিনা এবং অনিহা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি কিনা ! এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং সার্বিক চিত্র অনুমেয় করেও যদি বর্তমান সরকার মহান সংসদে আইনের সংস্কার আনেন এবং অনুদান থেকে বেতনে রুপান্তর করতেই পারেন । ৩৫০ জন মাননীয় এমপি সংসদে সংস্কারের উদ্দেশে যা-যা করা দরকার মহোদয়গণ করুন ! তাতে আমরাও বাঁচি । আমরাও ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে এবং পড়াশুনা করায়ে বাচঁতে পারি ! আমরা কোন জাতের শিক্ষক নই, আমরা পেশায় শিক্ষক । তাই, অর্থের মানের বৃদ্ধি নিয়ে বেচেঁ থাকতে চাই । এ টুকু চাওয়ার অধিকার আমাদের আছে বৈ কি !

 

দেখুন, সকল বেসরকারী শিক্ষককে রাজস্ব বেতনের আওতায় আনলে সরকারের কি পরিমান বেশি অর্থ ব্যয় হবে । অর্থ তো ব্যয় হবেই ! আজ বিশ্ব উন্নত, আমাদের দেশ উন্নত, রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উন্নত, রাষ্ট্রের গণতন্ত্র উন্নত, রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, উড়াল সেতু সহ রাজধানী ঢাকাকে একেবারেই অর্থ দিয়ে ঢেঁকে ফেলা হয়েছে । ভবনে-ভবনে ছেঁয়ে গেছে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ । আমাদের দেশ মধ্যম আয়ের দেশ, জাতি আজ বীরের জাতি, এই দেশ সহজের শিক্ষা গ্রহনের দেশ । এই দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দেশ, তবুও এই দেশে সকল বেসরকারী শিক্ষকরা জাতের বস্তু পরিনত হয়ে থাকবে ? অর্থের মানে সাধারন শিক্ষকদের প্রবেশ করতে পারবেন না কেন?প্রয়োজনে উচ্চতর কমিটি গঠন করুন, দির্ঘ্য সময় নিন,ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিন !

আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এই ০৫ লক্ষ বেসরকারী শিক্ষকদের কথা চিন্তা করতেন । এতো কথা বলাই লাগতো না ! দেশের সকল কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে , প্রযুক্তি নির্ভর দেশে রুপান্তর হচ্ছে । আগামীতে প্রযুক্তি রফতানীর দেশে পরিনত করতে জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় প্রচেষ্ঠা চালিয়েই যাচ্ছেন ! শুধু প্রচেষ্ঠা নাই বেসরকারী শিক্ষকরাও যাতে সম্মানে এবং অর্থের কাছ্াকাছি ঘোরা-ঘুরি না করুক, আমরা বেসরকারী শিক্ষক দেশের অর্থ সম্পদের আয়-ব্যয়, রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিরাট ভুমিকা রাখি এবং শিক্ষার্থীৃদেরকে নিজের হাতে গড়াই যাতে করে তারা শিক্ষা গ্রহন শেষে রাষ্ট্র চালাতে পারেন । যারা দেশ চালায় তারা কেন বেসরকারী শিক্ষকদের কথা ভাবেন না । এটা বড়ই পরিতাপের বিষয় ! আজ যাদের অর্থ আছে তারা আমাদেরকে নিম্ন আয়ের কর্মেও পেশার মানুষ মনে করে একেবারেই আলাদা জাতের পরিনত করাতে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন ।

কর্তারা ভাবেন বিএ/এমএ পাশ করে বেসরকারী শিক্ষক বানিয়ে ১৭০০০ হাজার টাকার নিচে ভাতা দিলেই তো চলে ! দেখুন একজন গার্মেন্টস কর্মী ১৭০০০ টাকার বেশি (ভাতা নয়) বেতন পান । একজন রিকশা চালক দৈনিক ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পান । এছাড়া একজন অটো/টোটো চালক দৈনিক ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার বেশি ইনকাম করেন । আবার একজন ডে-লেবার দৈনিক ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা ইনকাম করেন । অন্য দিকে, একজন রাজমিস্ত্রি দিনে ৫৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা ইনকাম করে থাকেন । কিন্তু একজন বেসরকারী শিক্ষকের দৈনিক বেতন নয় ভাতা পান ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার অধিক নয় । একজন বেসরকারী শিক্ষক এত কম ভাতা নিয়ে কিভাবে জীবন নির্বাহ করছেন? কিভাবে সন্তানদের ভাল মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করাবেন আপনি বলুন মহোদয় । তাই আজ বড় পরিতাপের বিষয় যে, আধমরা এই শিক্ষক মানুষ গুলোকেই বাঙ্গালী বীরের জাতি থেকে একেবারে নিম্ম অর্থ আয়ের জাতের আলাদা মানুষ বানিয়ে রাখবেন? এটা কি ঠিক হচ্ছে !

কোন তথ্য উপাত্ত ছাড়াই সকল স্তরের পেশা জীবি কর্তাদের জানাতে চাই , পাশ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার সহ কম-বেশি ধনী গরীবের দেশ গুলোতেও কিভাবে শিক্ষা এবং শিক্ষককে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ! বাংলাদেশে শিক্ষার নিত্য নতুন কারিকুলাম আসছে এবং চালু হচ্ছে । তাতে আমরা ৯৭% বেসরকারী শিক্ষকগণেরা প্রতি নিয়ত ঢেকিঁ ছাটা অরিজিনাল চাউলের মত জ্ঞান বিলিয়ে যাচ্ছি তো যাচ্ছি । আমরা সরকারকে অবিরাম সহোযোগিতা করছি, আমরা দেশকে এবং দেশের মানুষকে পথ দেখাচ্ছি । কিন্তু আমাদেরকে পথ দেখার যেন কেউ নাই ।

আমার মনে হয়, আমাদের মত শিক্ষক দেখে সবাই শরম পায়, গোটা জাতি আজ লজ্জিত হয়ে মুখ ফিরিয়ে পিছনে আছেন । সরকারী শিক্ষকরা হয়তবা আমেরিকায় তৈরী কেদারায় বসে বসে শুধু ঘড়ির ঘন্টা দেখেন কখন নিজের ক্লাস পিরিয়ডটার সময় যায় । যাতে প্রাইভেট/কোচিং শুরু করতে পারেন এবং ভাবেন সরকারের কখন কি প্রজ্ঞাপন আসে ট্রেনিং না অন্য কিছরু, ছুটির তো মেলা ভার, বৎসরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২৩ দিন নির্বাহী ছুটি পান এবং ১১২ দিন বিদ্যালয়ের ছুটি পান । বছরে ছলে-বলে সম্ভবমতে ১৮৫ দিনের ক্লাস পায় সাধারণ ছাত্ররা । অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সরকারী প্রাইমারীরা ও ২% সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণের ছেলে-মেয়েদেরকে পড়া শুনা করাতে, ডাক্তার দেখানো এবং ট্রেনিং, কত ভাগ বাৎসরিক ইক্রিমেন্ট বৃদ্ধি পেল, কতটা বোনাস, কতটা পদন্নোতি স্কেল পেল, কতটা সিজারিয়ান বাড়তি বিল, কতটা চিত্র বিনোদন ভাতা পেল এবং ক্লাস বাদে অন্যান্য অজুহাতের শেষ আছে কিনা ইনকোআরি করে দেখলেও দেখতে পারেন সরকারের উচ্চ পর্য্যৃায়ের কেউ কেউ । সরকারী প্রাইমারীতে শতকরা ৮৩% ভাগ ছেলে মেয়ে যোগ-বিয়োগ করতেই পারে না । থোদ গত প্রাইমারী প্রতিমন্ত্রী বলেছেন । তাতে কি! সরকারের কত টাকাই বা ব্যয় হয় । আর বেসরকারী শিক্ষকরা সেই ৮৩% বিকল ছাত্রের জ্ঞানের ঘষা-মাঝার কামলা দিয়ে দিয়ে বেড়াচ্ছেন ! বেসরকারী শিক্ষকদেরকে দিয়ে শিক্ষার শিক্ষায় হাল-চাষ, মই ইত্যাদি করিয়ে নিচ্ছেন ! ৯৭% বেসরকারী শিক্ষকদের ভাল মানের ট্রেনিং নাই । আরো উপহাসের পাত্র হল মাষ্টর বলে দাম নাই ! মাসের শেষে টাকাও নাই ! কোন বড় দলে মূল্যও নাই । বড় দল মূল্য দেখালে শিক্ষকের চিত্র আজ পাল্টাতো ।

দেশের মানুষ উন্নত হলেও শিক্ষার-শিক্ষককে নিয়ে ভাবার যেন কেউ নাই । দেখুন, আমেরিকায় সকল স্তরের শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয় । ফ্রান্সের আদালতে কেবল জাতির শ্রেষ্ঠ সকল শিক্ষকদের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় । জাপান সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোন শিক্ষককে গ্রেফতারও করা হয় না । কোরিয়ায় শিক্ষক হিসেবে পরিচয় পত্র দেখালে মন্ত্রীদের সমান সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় । চীনে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা পান জাতির সর্ব স্তরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা । আর বাংলাদেশের শতকরা ৯৭% ভাগ বেসরকারী শিক্ষকগণেরা পান শুধু অবহেলা আর অবহেলা । তাই আমরা জাতে পরিনত হতে চাই না, আমাদেরকে জাতে ধরে না রেখে এবার অর্থের মানের নিয়ন্ত্রণে প্রবেশ করিয়ে সবার সাথে জীবন কাটাতে চাই ।

৯৭%শিক্ষকদের আছে ঠান্ডা স্বভাবের বুদ্ধি, হাতে কলম এবং বলহীন পা, যা দ্বারা বেশি লাফা-লাফি করলে হয়ত ভেঙ্গে পড়ে থাকতে হবে বৈ কি ! কিন্তু এই ঠান্ডা স্বভাবের বুদ্ধি ও হাতের কলম থেকেই লেখার আন্দোলনের, কথার আন্দোলনের উত্তাল বানী একদিন না একদিন তরঙ্গ বেয়ে আঁওয়াজ দিবে বৈকি ! বর্তমানের সরকারই শিক্ষা বান্ধব সরকার ।তাই, জয় হউক প্রধান মন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার । জয় হে, জয় হউক শিক্ষা ও শিক্ষকের !

সরওয়ার মোরশেদ মোড়ল ( এম এ, এম এড)
শিক্ষক ও কলাম লেখক । মোবাইল : ০১৭১৪-৩৩৩৫৮৭

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।