চট্টগ্রামবুধবার , ৫ জুন ২০২৪
  1. অগ্নিকাণ্ড
  2. অজ্ঞাত
  3. অনশন
  4. অন্যরকম
  5. অপরাধ
  6. অপহরণ
  7. অবৈধ
  8. অভিনন্দন
  9. অর্থনীতি
  10. অসহায় দরিদ্র
  11. আইন বিচার
  12. আইন শৃঙ্খলা
  13. আতঙ্ক
  14. আত্মহত্যা
  15. আন্তর্জাতিক

ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য সহকারীর পদে চাকরীর দাম ৮ লক্ষ টাকা

deshbarta news
জুন ৫, ২০২৪ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য সহকারীর পদে চাকরীর দাম ৮ লক্ষ টাকা

আলামিন হোসাইন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরীর নামে ৯ লক্ষ টাকা প্রতারণা স্বাস্থ্য সহকারীর

সম্প্রতি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস জেলার সকল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসমূহের ফাঁকা ১৩৫টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করে। যার আবেদনের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের ফাঁকা পদে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন চাকুরী প্রত্যাশী যুবক-যুবতীর কাছ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারী চাকুরীজীবির বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ মন্জুর রশীদ (৫০)। তিনি হরিনাকুন্ডু উপজেলার কপাসাটিয়া ইউনিয়নের শাখারীদাহ কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ী একই উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কন্যাদহ গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ মুজাম বিশ্বাস।

ভুক্তভোগীরা হলেন, হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাসাটিয়া ইউনিয়নের মোঃ সদর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান, মোঃ জিল্লু হোসেনের মেয়ে মোছাঃ পলি খাতুন, সাইদুর রহমানের মেয়ে মোছাঃ আসমা খাতুন, কুশাল মন্ডলের ছেলে রাশেদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকুরী প্রত্যাশীদোর সাথে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত এক আত্মীয়র মাধ্যমে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে আট লক্ষ টাকা করে দরদাম করেন অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারী। তারপর চাকুরী প্রত্যাশী চারজনের পিতাদের কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ে টাকা দেবার কথা বলে নিয়েছেন ৯ লক্ষ টাকা নিয়েছেন অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারী। যার মধ্যে চাকুরী প্রত্যাশী মেহেদী হাসানের বাবদ ১ লক্ষ, মোছাঃ পলি খাতুনের বাবদ ২ লক্ষ, আসমা খাতুনের বাবদ ৪ লক্ষ এবং রাশেদের বাবদ ২ লক্ষ।

ভুক্তভোগীরা বলেন, মোঃ মন্জুর রশীদ চাকরী প্রত্যাশী যুবক ও যুবতীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য পরিচয় দেন মন্ত্রণালয় তার আত্মীয় বড় পদের চাকরি করে। এরপরে মোঃ মন্জুর রশীদ সাইদুল নামের এক ব্যক্তির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁর সাথে টাকা পয়সা লেনদেনও করেন এবং সঠিক সময়ে ফেরত দেন। এই ভাবে বিশ্বাস অর্জন করে সাইদুলর মাধ্যমে সাইদুলের ভাগ্নি সহ ৪ জনের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ৯ লক্ষ টাকা নেন।

ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, মোঃ মন্জুর রশীদ স্বাস্থ্য সহকারী পদে শাখারীদাহ কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন চাকুরী করেন। চাকুরীর সুবাধে তাঁর সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুবাধে এক সময় সে প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমার এক আত্মীয় চাকরী করে তাঁর মাধ্যমে আমি চাকরি পাওয়ায় দিতে পারবো। অনেক দিনের সম্পর্ক ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমরা তাঁর প্রস্তাবে এক একজনের চাকরী বাবাদ ৮ লক্ষ টাকায় রাজি হয়। পরে তিনি চাকরী দেওয়ার জন্য অগ্রীম টাকা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া লাগবে বলে মোট ৫ জনের থেকে ৯ লক্ষ টাকা নেন।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান পিতা মোঃ সদর হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী মন্জুর রশীদ আমাদের এলাকায় চাকরি করার সুবাধে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। তখন তিনি আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন। প্রথমে রাজি না হলেও ওনার কথায় বিশ্বাস করে চাকরি বাবদ ৮ লক্ষ টাকা চুক্তি হয়। অগ্রিম ১ লক্ষ টাকা প্রদান করি। আমার জানা মতে, মোছাঃ পলি খাতুন পিতা মোঃ জিল্লু হোসেন এর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা, মোছাঃ আসমা খাতুনের পিতা সাইদুর রহমান এর কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা এবং রাশেদের পিতা কুশাল মন্ডল এর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা সব মিলিয়ে ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চাকরি না দিয়ে প্রতারনা করছেন তিনি।

এদিকে সরজমিনে গিয়ে শাখারীদাহ কমিউনিটি ক্লিনিকে মনজুর রশীদকে খোঁজ করলে তাঁকে কর্মস্থলে পাওয়া যায় নি। সাখারীদহ কমিউনিটি ক্লিনিকের সি এইস সি পি আসমা আক্তারের কাছে তাঁর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি গত দুই দিন অফিসে আসেন না। তবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন কি না আমি জানি না।

এবিষয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারী মনজুর রশীদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্যি। আমি চাকরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছি। চাকুরী দিব না তা বলি নি। সামনে নিয়োগ আসলে দিয়ে দিব কিন্তু তাঁরা আমাকে বার বার বলছে চাকরি না দিলে টাকা ফেরত দিতে। একটা চাকরির প্রক্রিয়ার জন্য তো কিছু সময়ের প্রয়োজন।

এবিষয়ে হরিনাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকতা ডাঃ জামিনুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমি অবগত না। তবে মনজুর রশিদ সরকারী চাকরী করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রাণী বলেন,সরকারি চাকরি করে কেও চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনা করলে তাঁর দায় তাঁর নিজের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।