শুক্রবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই: জামায়াত আমির আইনের শাসনে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেবী দুর্গার আদলে ছবি, রুমিন ফারহানার ক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার সাজেক অবরোধকারী সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি, আইনশৃঙ্খলার ৬ সদস্য আহত খুলনা-বাগেরহাট জেলায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান জনগণ আওয়ামী লীগকে আর কখনও রাজনীতি করতে দেবে না : স্পিকার নারায়ণগঞ্জে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি: ট্রাম্প
Advertise with us

ওটিসিতে সাকিবের কোম্পানির সন্দেহজনক বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেন!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ওটিসিতে সাকিবের কোম্পানির সন্দেহজনক বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেন!

ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট— যাকে শেয়ারবাজারের ‘ডাস্টবিন’ বলা হয়। এটি মূলত দেউলিয়া হয়ে যাওয়া, দীর্ঘ বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা কিংবা অস্তিত্বহীন কোম্পানির লেনদেন প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার মালিকানা বছরের পর বছর লেনদেনবিহীন অলস পড়ে থাকে। তবে, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনেক সময় কোনো কোনো শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়। আর এই সুযোগেই ডালপালা মেলে নানা গুঞ্জন কিংবা কারসাজি চক্রের প্রতারণা।

দেশের শেয়ারবাজারের ওটিসি মার্কেটে মোট ৫৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি কোম্পানির একটি শেয়ারও চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে লেনদেন হয়নি। লেনদেন হয়েছে মাত্র পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে একটি কোম্পানিতে সন্দেহজনক বড় অঙ্কের লেনদেন পরিলক্ষিত হয়েছে; যেটির মালিকানায় রয়েছেন শেয়ারবাজারের কারসাজি চক্রের হোতা হিসেবে আলোচিত বিনিয়োগকারী মো. আবুল খায়ের ওরফে হিরু এবং শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মূলত এই কোম্পানিটিকে কেনা হয়েছিল শেয়ারবাজার থেকে কারসাজির মাধ্যমে শতকোটি টাকা লুট করার পরিকল্পনা, যা এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

কোম্পানিটির নাম আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে ব্যবসা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত হয়। বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারায় ২০০৯ সালে এটিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরানো এবং কারসাজির মাধ্যমে শতকোটি টাকা লুট করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে হিরু ও সাকিবদের গ্রুপটি। তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের পদত্যাগে তাদের পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন আলোচনায় নতুন বাঁক নিয়েছে। বড় অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে কোম্পানিটির মালিকানা নতুন কোনো পক্ষের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, অথবা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফের প্রতারণার ছক সাজানো হচ্ছে কি না— এই প্রশ্ন উঠছে বাজারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৯ মে পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির ১৩ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪ শতাংশের বেশি। সর্বনিম্ন ৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা দরে এসব শেয়ার লেনদেন হয়েছে। অধিকাংশ দিনেই মাত্র এক থেকে পাঁচজনের মধ্যে এই শেয়ারগুলো লেনদেন হয়েছে। এই বড় অঙ্কের শেয়ার দিয়ে কোম্পানির বোর্ডে অন্তত দুজন শেয়ারধারী পরিচালক নিয়োগ হওয়া সম্ভব।

অবশ্য ডিএসইর একটি সূত্র বলছে, যে শেয়ারগুলো লেনদেন হয়েছে সেগুলো সাধারণ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হতে পারে। কেননা উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মালিকানা ছাড়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ মানতে হয়। তবে, সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করলে কিংবা কিনলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে পূর্বে ঘোষণা দিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, বিধি লঙ্ঘন করে বন্ধ এই কোম্পানিটির শেয়ার কোনো পক্ষের কাছে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে কি না? অথবা, গুঞ্জন ছড়িয়ে কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের বেনামে ধারণকৃত শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে কি না?

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যারাই এই শেয়ার কিনছেন, তারা জেনে-বুঝেই ঝুঁকি নিচ্ছেন। কারণ, না বুঝে কেউ মূল মার্কেট ছেড়ে ওটিসির শেয়ার কিনতে যাবেন না। এক্ষেত্রে হয়তো একটি শ্রেণি গোপনে গুঞ্জন ছড়িয়ে কাউকে ওই শেয়ারগুলো কিনতে প্ররোচিত করছে। যতই গুঞ্জন থাকুক না কেন, এই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করে লাভ হওয়ার চেয়ে বড় ক্ষতির ঝুঁকিই বেশি থাকবে।

শতকোটি লুটের ছক করা হয় যেভাবে
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের পদত্যাগের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএসইসি শেয়ারবাজারে অনিয়ম অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে যেসব কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি উদ্‌ঘাটনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আল-আমিন কেমিক্যাল তার অন্যতম। সংস্থার অনুসন্ধানে উঠে আসে, যারা নতুন করে এই কোম্পানিটি কিনেছেন, তাদের কেউই শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালানোর লোক নন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অধ্যাপক শিবলীর সঙ্গে সখ্যতা কাজে লাগিয়ে শেয়ার ব্যবসা করা। এছাড়া, ব্যবসা পুনরুদ্ধারের নাম করে বিনিয়োগের টাকা জোগাড় করে সে টাকা শেয়ার ব্যবসায় খাটিয়ে মুনাফা করা এবং কোম্পানিকে লাভজনক দেখানো। এর পর কোম্পানিটিকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে শেয়ারদর বাড়িয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

ছক অনুযায়ী, ব্যবসা পুনরুদ্ধারের নামে কোম্পানিটিতে নতুন করে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হিরু ও সাকিবসহ আরও কয়েকজন। তবে, এর মধ্যে ১৫ কোটি টাকাই বিধি-বহির্ভূতভাবে শেয়ার ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়। অধ্যাপক শিবলীর আমলেই আইন অমান্য করে শেয়ারবাজারে ওই বিনিয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও অধ্যাপক শিবলীর পদত্যাগ এবং যে শেয়ারগুলোতে কোম্পানির অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল তাতে বড় অঙ্কের লোকসান হয়। ফলে তাদের লুটের পরিকল্পনা প্রথমেই হোঁচট খায়। এতে হিরু ও সাকিবের সঙ্গে যারা ওই বিনিয়োগে শরিক হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

পরবর্তীতে কোম্পানিটি ডিএসইর এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করলে এক্সচেঞ্জটির পরিদর্শনে নানা অসংগতি পাওয়ায় আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ডিএসইর পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, যে পরিকল্পনা নিয়ে আল-আমিন কেমিক্যালের ব্যবসা চালুর কথা জানানো হয়েছিল, কোম্পানিটি পরিদর্শনে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। নতুন মালিকরা তাদের ব্যবসা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আদৌ সক্ষম কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ডিএসইর এমন প্রতিবেদনের পরও কোম্পানিকে এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত করতে মরিয়া ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী। ডিএসই যেসব যুক্তিতে কোম্পানির আবেদন নাকচ করেছিল, সেগুলোতে ছাড় দিয়ে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার পতন ও অধ্যাপক শিবলীর পদত্যাগে সেটি আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

কোম্পানির বর্তমান অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ওটিসির অন্যান্য কোম্পানির মতো আল-আমিন কেমিক্যালের ওয়েবসাইটটিও পূর্ণাঙ্গ সচল নেই। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে কারা রয়েছেন, সেই তথ্য পর্যন্ত হালনাগাদ নেই। এছাড়া, শেয়ারধারণ ও আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যও নিয়মিত আপডেট করা হয়নি।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি ৯ পয়সা লোকসান হিসেবে নিট লোকসান হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ৩৬ পয়সা লোকসান হিসেবে নিট লোকসান হয়েছিল ৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির লোকসান বড় অঙ্কে কমিয়ে দেখানো হয়েছে।

এই কোম্পানিটি ২০২২ সালে যখন এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেয়, তখন আগের বছরগুলোর ধারাবাহিক লোকসান কাটিয়ে টানা দুই বছর মুনাফা দেখানো হয়েছিল। ওই মুনাফায় ভর করে ২০২৩ ও ২০২৪ অর্থবছরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশও দিয়েছিল। মূলত এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত অনুযায়ী পরপর দুই বছর মুনাফা ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। সেই শর্ত পূরণ করতেই কৃত্রিমভাবে ওই মুনাফা দেখানো হয়েছিল বলে বিএসইসির বর্তমান কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।

বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলীর পরামর্শ অনুযায়ী মুনাফা দেখানো এবং লভ্যাংশ দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ এগিয়ে চললেও সরকারের পতন কোম্পানিটির এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হওয়ার স্বপ্নে পানি ঢেলে দেয়। এতে ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানির বড় লোকসান দেখাতে হয়, যার পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এরপর থেকে কোম্পানিটি ধারাবাহিক বড় লোকসান দেখিয়ে আসলেও গত ছয় মাসে লোকসানের পাল্লা রহস্যজনকভাবে হালকা হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, কোম্পানিটিতে আবার কোনো প্রতারণার ছক আঁকা হচ্ছে কি না?

এ বিষয়ে আল-আমিন কেমিক্যালের কোম্পানি সচিব স্বপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিতে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রয়েছে। হিরু ও সাকিবদের পক্ষে আমিনুল ইসলাম সিকদার বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের মালিকানা বিক্রি হয়নি, আগের মতোই রয়েছে। তবে, আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে এমডির দায়িত্বে রয়েছেন এম এম রফিকুজ্জামান।’

ওটিসিতে বড় অঙ্কের লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি জানান, এটি তার জানা নেই। পরে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ফরিদপুর বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত কোম্পানির একমাত্র কারখানাটি আসলেই সচল রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেননি এই প্রতিবেদক। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে লোকসানের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে আসার প্রকৃত কারণও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিধি-বহির্ভূত লেনদেন হলে আইনি ব্যবস্থা
শেয়ারবাজারে শেয়ার লেনদেন সংক্রান্ত কোনো ধরনের কারসাজি, অনিয়ম কিংবা বিধি-বহির্ভূত লেনদেন হলে সেটি প্রাথমিকভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ তদারকি করে। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক তদারকিতে অনিয়ম দৃশ্যমান হলে পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে বিষয়টি জানানো হয়। এরই আলোকে কমিশনের নির্দেশে স্টক এক্সচেঞ্জে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তি কিংবা জরিমানা আরোপ করতে পারে বিএসইসি। তবে, অনেক ক্ষেত্রে বিএসইসি স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেও অনিয়মের তদন্ত করে থাকে।

আল-আমিন কেমিক্যালের ওটিসিতে বড় লেনদেনের বিষয়ে ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওটিসিতে থাকা কোম্পানিগুলোর খুব একটা লেনদেন হয় না। এই কোম্পানিটির ক্ষেত্রে হঠাৎ করে কেন বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের সার্ভেইল্যান্স বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। বিধি-বহির্ভূত লেনদেন হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়