
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে একসঙ্গে ১৭ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৫ জন কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে (লঘুদণ্ড) দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির ইতিহাসে এটিই একসঙ্গে নেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিএসইসির কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৯ আগস্ট (বুধবার) কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পান।
জানা যায়, বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং কমিশনারদের চার ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এই ঘটনার সূত্রে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিএসইসি সরকারের এই নির্দেশ পালন করে।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ ও নাজেহালের ঘটনায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় মামলা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ওই মামলা করেছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা আগেই অন্য অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ায় এবার মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
বরখাস্ত হওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে কথা তাদের জানানো হয়। তবে বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা বুধবার (১৯ আগস্ট) হাতে পেয়েছেন। অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই চিঠি গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ মার্চ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী এসে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন। বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে এসব কর্মকর্তারা ওই ঘটনা ঘটান। পরে তারা তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি এই ঘটনায় কর্মবিরতিও পালন করেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে কয়েক দিন সংস্থাটিতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান (সাবেক) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কমিশনার (সাবেক) মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে সভা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী কমিশনের সভাকক্ষে জোরপূর্বক ও অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। এরই মধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই, কমিশনের লিফট বন্ধ করে দেন এবং বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ করে মারাত্মক অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।
