
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কারকাজ চলার কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াতের প্রধান ভরসা এখন রেলপথ। তবে কালোবাজারি, অনলাইনে টিকিট না পাওয়াসহ নানাবিধ কারণে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিলেটের যাত্রীদের। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীর তুলনায় ট্রেনের বগি ও ইঞ্জিনের সংখ্যা কম থাকায় চাহিদা মতো সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেসের টিকিট কিনেছিলেন প্রবাসী সাজেদ আহমদ। অনলাইনে কেনা টিকিট নিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মুখেই বাধা, টিকিট পরীক্ষক জানান, তার টিকিটটি নকল।
প্রবাসী সাজেদ বলেন, ‘স্ক্যান করার পরে এই জানা গেছে এডিট করা টিকিট এটি। পরে আমি তার কাছে ফোন দিয়েছি। তিনি বলেছেন, ৫ মিনিটের ভেতরে অন্য বগিতে, অন্য প্ল্যাটফর্মে আমাকে টিকিট এডিট করে দেবে।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষদের একজন বলেন, ‘তাদের টিকিট আমি যখন চেক করেছি, তখন নট ফাউন্ড দেখিয়েছে। অর্থাৎ টিকিট কাটা হয়েছিল, পরে হয়তো ক্যানসেল করেছে, কিন্তু পিডিএফটা রয়ে গেছে। এগুলো দেখা যায় চক্র বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে।’
অনলাইনে টিকিট কিনতে গিয়ে এমন বিড়ম্বনার অভিযোগ নতুন নয়। সড়কপথের বেহাল দশায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীদের কাছে ট্রেনই অন্যতম পছন্দের। কিন্তু যাত্রার ১০ দিন আগে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও অল্প সময়ে তা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে সাধারণ যাত্রীরা।
রেলযাত্রা সহজ করতে কয়েক বছর আগে চালু করা হয়েছিল অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য ছিল ঘরে বসেই টিকিট সংগ্রহ, কমবে ভোগান্তি। কিন্তু টিকিট না পাওয়া, কালোবাজারির দৌরাত্ম্য অনলাইন টিকেটিং কি ভোগান্তি বাড়াচ্ছে- এমন প্রশ্ন জনমনে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পরপরই তা উধাও হয়ে যায়। এর পেছনে কালোবাজারিদের তৎপরতা এবং রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, অনলাইনে ৪-৫ জনের গ্রুপ থাকে। কারণ অনলাইনে এক ব্যক্তি ৪টা টিকিট কাটতে পারে। এরকম দেখা গেছে যে চার-পাঁচটা আইডি ইউজ করছে তারা। ১ ঘণ্টার মধ্যে পুরো টিকিট খালি হয়ে যায়।
তবে যাত্রীদের এসব অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, চাহিদার তুলনায় ট্রেন ও ইঞ্জিনের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় টিকিটের সংকট। অন্যদিকে, টিকিট কালোবাজারি ও স্টেশনকেন্দ্রিক অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘যে পরিমাণ টিকিট থাকার কথা সে পরিমাণ আমাদের টিকিটের যোগান নাই। আমাদের ডেলি যাত্রী আছে ২০ হাজার, টিকিট আছে আমাদের মাত্র ১২০০। সেজন্য যোগান পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় সে জন্য মানুষ টিকিট পায় না। যেহেতু টিকিট অনলাইন, অনলাইনে সবকিছু টিকিট আছে। আমাদের করার কিছু নাই।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের তো ম্যাজিস্ট্রেট ঘুরে, আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমরা কিন্তু ইন্টেলিজেন্সের হেল্প নিচ্ছি। এখানে প্রচুর ইন্টেলিজেন্স কাজ করতেছে। এবং আপনারা হয়তো জানবেন গতকালকে আমরা ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে একজন কালো ব্রোকারকে আমরা ধরে ফেলছি।’
সড়কপথের ভোগান্তিতে রেলপথ যখন গুরুত্বপূর্ণ বাহন, তখন রেল সংকট ও কালোবাজারির অভিযোগে রেলযাত্রাও হয়ে উঠছে দুর্ভোগের কারণ। যাত্রীদের প্রত্যাশা, টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ট্রেনের সংখ্যা ও সেবার মান বাড়াবে রেল কর্তৃপক্ষ।
