বুধবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সাজেকে সপ্তম দিনে ও চলছে অবরোধ কর্মসূচি, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা অনুমোদন না থাকায় জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে কোচের ধাক্কায় নিহত ৩, ১১ জনের অবস্থা গুরুতর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেবিআইসি গভর্নর নারীর সচ্ছলতা ও স্বনির্ভরতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন পাকা সেতু না হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রতি ডেপুটি স্পিকারের দুঃখ প্রকাশ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার জন্য সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় ৫ জন নিহত, আহত ৪ কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর আইজিপির দেয়া সস্তা বক্তব্য দেশের ক্ষতি, সরকারকে বিব্রত ও ভীত করবে: রিজভী
Advertise with us

এরশাদ আমলে আমার অধীনেই বন্দি ছিলেন শেখ হাসিনা:ট্রাইব্যুনালে আযমী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এরশাদ আমলে আমার অধীনেই বন্দি ছিলেন শেখ হাসিনা:ট্রাইব্যুনালে আযমী

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে ‘গুম ও নির্যাতনের’ অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা তার অধীনে বন্দি ছিলেন।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম ও নির্যাতনের’ অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে আযমীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী দুলু জানতে চান, শেখ হাসিনার সঙ্গে আযমীর কখনো দেখা হয়েছিল কি না। জবাবে আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কয়েকবার দেখা হয়েছিল।

“হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম। ওই সময় মার্শাল লর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দি করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।”

১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তৎকালীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলায় তাকে এবং আওয়ামী লীগের আরও ৩১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। সেবার ১৫ দিন অন্তরীণ থাকার পর মুক্তি পান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে সেই আদালতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ২৩ জুন গোলাম আযমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন আযমী। তবে তখন নিজের পক্ষে রায় পাননি।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে। তার বদলে ২০০৯ সালের ২৪ জুন থেকে তাকে ভুতাপেক্ষভাবে ‘অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর’ দেওয়া হয়। এর ফলে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার হিসেবে আমান আযমীর সব আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পথ খোলে।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৬ সালের ২২ অগাস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ২০২৪ এর ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দুই দিন পর বাড়ি ফেরেন তিনি।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আযমী বলেন, তাকে ‘গুম’ করে আয়নাঘরে অন্তরীণ করে রাখা হয়। অভ্যুত্থানের পর তিনি সেখান থেকে মুক্তি পান। বন্দিদশার দিনগুলোতে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। আট বছর তিনি সূর্যের আলো দেখার সুযোগ পাননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘চব্বিশের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধে’র বিচারের জন্য পুনর্গঠন করে। প্রথম মামলার রায়ে শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলা হয়।

এর মধ্যে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৭ জন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ জন আসামি। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়।

জেআইসিতে ‘গুম ও নির্যাতনের’ মামলায় ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এই তিন আসামি হলেন— ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনালে তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, শাইখ মাহদী এবং মঈনুল করিম।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪
৫৭৮৯১০১১
১১৩৪১৫১৬১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়