
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলা নতুন বর্ষকে ১৪৩৩ স্বাগত জানিয়ে শুরু হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবার প্রথমবারের মতো ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়। শোভাযাত্রটি চারুকলা ঘুরে শাহবাগ থানা ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবার কথা রয়েছে।
এবারের শোভাযাত্রায় শোভাযাত্রায় বাউল সংস্কৃতির ওপর আঘাতের প্রতিবাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল কাঠামো হিসেবে থাকছে ‘দোতারা’। এ ছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, লোকজ মোটিফ হিসেবে হাতি ও ঘোড়া এবং নতুন দিনের সূচনার বার্তা দিতে থাকছে মোরগ। এছাড়া থাকছে ইতিহাস নির্ভর পটচিত্র।
উল্লেখ্য, আশির দশকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরূদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য এবং একইসঙ্গে শান্তির বিজয় ও অপশক্তির অবসান কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম আনন্দ শোভাযাত্রার প্রবর্তন হয়। ওই বছরই ঢাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করার উদ্যোগ প্রতি বছর অব্যাহত রাখে। জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে নাম লাভ করে। প্রায় তিন দশক পর গত বছর ২০২৫ সালে চারুকলার এই শোভাযাত্রা ফিরে আনন্দ শোভাযাত্রা নামে। পরবর্তীতে নানা তর্ক-বিতর্কের মুখে এবছর ২০২৬ সাল থেকে শোভাযাত্রা হতে যাচ্ছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে।
২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা বা অস্পর্শনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান লাভ করে। গেল বছর নাম পরিবর্তনের পর ইউনেস্কো গণমাধ্যমকে জানায়, নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে তারা কোনো অবস্থান নেয় না। তবে সরকার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হয়।
