বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
দেশের ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ কর্মকর্তার বদলি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধন হতে হবে: স্পিকার নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, তদন্ত কমিটি গঠন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা ঠিক নয়,  তবে কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির অর্থপাচার মামলায় এক দিনের রিমান্ডে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি ব্রাহ্মণবাড়িয়া- কুমিল্লা সীমান্তবর্তী ৫৬টি দুর্গাপূজা মণ্ডপে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দ্বিতীয় কোনো দেশ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী
Advertise with us

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ নির্দেশনার অংশ হিসেবে শপিং মল, বিপণিবিতান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের কথা বলা হয়েছে। তবে দেখা গেছে, রাজধানীর অনেক মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এখনো জমকালো আলোকসজ্জা বহাল রয়েছে। ফলে সরকারের নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ৪ মার্চ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করে। এতে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান এবং খোলাবাজারে ডিজেল-পেট্রল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিউ মার্কেট এলাকায় আলোর ঝলকানি

বুধবার (১১ মার্চ) রাতে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব শপিং মল ও বিপণিবিতানেই ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা সেখানে কার্যত উপেক্ষিত।

নিউ মার্কেট এলাকার চন্দ্রিমা উদ্যান, নূরজাহান মার্কেট এবং গাউছিয়া মার্কেটসহ আশপাশের মার্কেটগুলোতে বড় বড় বাহারি রঙের লাইটিং ও দূর থেকে চোখে পড়ার মতো আলোকসজ্জা দেখা গেছে। অনেক দোকানে ছিল উচ্চক্ষমতার আলোর ঝলকানি ও সাউন্ড সিস্টেম। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও আশপাশের মার্কেটগুলোতেও নির্দেশ অমান্য করে চলছে এমন চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের এমন নির্দেশনা সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। গাউছিয়া মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. কাবিল হোসেন বলেন, শবে বরাত থেকে ঈদ পর্যন্ত প্রতিবছরই আমাদের এখানে আলোকসজ্জা করা হয়। এবারও তা অব্যাহত আছে। তবে সরকারের নির্দেশ পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই এলাকার মক্কা শপিং মলের বাইরের দেয়ালজুড়েও বিভিন্ন রঙের কৃত্রিম বাতি জ্বলতে দেখা গেছে। মলটির ব্যবস্থাপক তানভীর রহমান জানান, সন্ধ্যায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে আলোকসজ্জা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞার পরও কেন আলোকসজ্জা বন্ধ করা হয়নি–এ প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু আমাদের মার্কেট নয়, নিউ মার্কেটের প্রায় সবাই-ই বাতি জ্বালাচ্ছে। আমরা এখন নির্দেশনা পেয়েছি, তাই ধীরে ধীরে বন্ধ করার কাজও শুরু হবে।

রাত ৯টার দিকে এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বিভিন্ন মার্কেটেও গত রাতে ব্যাপক আলোকসজ্জা দেখা গেছে। দোকানের সামনে সাইনবোর্ড ও দোকানজুড়ে অতিরিক্ত লাইটিং করা হয়েছে। বসুন্ধরা মার্কেটও ছিল আলোর ঝলকানি। তবে বেইলি রোডের কয়েকটি মার্কেট এবং শান্তিনগরে ইস্টার্ন প্লাস মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর সচেতনতার অংশ হিসেবে এসব স্থানে আলোকসজ্জা বন্ধ করা হয়েছে, যদিও আশপাশের কিছু এলাকায় এখনো তা চালু রয়েছে।

মৌচাক এলাকায় একই চিত্র

রাজধানীর মৌচাক মার্কেট এলাকার ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটজুড়ে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে জানতে মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মরত এক কর্মী জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনার বিষয়ে তারা অবগত নন।

সেখানকার সেন্টার পয়েন্ট শপিং মল ভবনটিতেও জমকালো আলোকসজ্জা দেখা গেছে। এ বিষয়ে মার্কেটটির দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে অবশ্যই তা মেনে চলব। তবে আশপাশের অন্য মার্কেটগুলোতেও তো একইভাবে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া রাজধানীর শান্তিনগরের টুইন টাওয়ার্স কনকর্ড শপিং কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালজুড়েও ঝলমলে আলো দেখা গেছে। কাকরাইলে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সেও চলছে আলোকসজ্জা।

বিজয়নগর মোড়ে র‌্যাংগস ই-মার্ট শোরুম এবং পুরানা পল্টনে ট্রান্সকম ডিজিটালের শোরুমের বাইরের দেয়ালজুড়েও আলোকসজ্জা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানান, ঈদের মৌসুমে ক্রেতা আকর্ষণের জন্য প্রতিবছরই তারা এ ধরনের আলোকসজ্জা করে থাকেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। কিছু মার্কেট তা মেনে চললেও অনেকেই এখনো তা মানেনি। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের মতো করে আলোকসজ্জা করে রেখেছেন। এ বিষয়ে ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। আমরা তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
১২৩৪৫৭
৮৯১০১১১১৩৪
১৫১৬১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২
৯৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়