
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড দাবির পর এবার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, তেহরানকে আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হয়ে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আবারও সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর চরম ঝুঁকিতে বিশ্ব বাণিজ্য ও অর্থনীতি। আলোচনায় অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের। হরমুজে পূর্ণ মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি। এর মধ্যেই ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিশোধের হুংকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রুথ স্যোশ্যালে হরমুজ প্রণালিকে নতুন মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করার পর এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, সহসাই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে না যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও হরমুজ প্রণালি ও আশেপাশের জলসীমায় ফের মার্কিন নৌ-অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুঞ্জন, ট্রাম্প প্রশাসন এবার সামরিক সংঘাতে না জড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে টেকসই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তেহরানকে আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হয়ে সমঝোতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। আর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলছেন, স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। এর মধ্যে রয়েছে- জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়, নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া, তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হামলা বন্ধসহ অন্যান্য শর্তাবলী।
এদিকে, নিজেদের জলসীমায় ইরান থেকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের পর দেশটির সঙ্গে করেছে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ঘটনার পর দুবাই ও অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বার্তাও পাঠানো হয়। যদিও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে।
ফের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করায় হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থায় বিশ্ব বাজারে আবার ও বেড়েছে তেলের দাম। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
