
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

খুলনা ও সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারি খাতে ইজারা দিয়েছে সরকার। মিলগুলোতে তৈরি পোশাক, জুতা, খেলনা, আসবাব, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য ও লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ তথ্য জানান।
খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল ৩০ বছরের জন্য ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপের আবদুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানি। আর খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস এবং সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মামনুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইজারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ স্টার জুট মিলস ও জাতীয় জুট মিলে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। দুটি কারখানায় উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য, আসবাব, এমডিএফ বোর্ড, তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প, ব্যাগ, জুতা ও খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। এতে প্রায় ১১ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে হ্যামকো গ্রুপ। সেখানে বিশেষায়িত পাটের ম্যাট্রেস ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনের দুটি কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা বিজেএমসির ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর বন্ধ মিলগুলো বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এখন পর্যন্ত ১৪টি পাটকল ইজারা দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি উৎপাদনে গেছে। এসব কারখানায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে বিজেএমসি জানিয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘ইজারা পাওয়া দুটি কারখানায় অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির জন্যও পণ্য উৎপাদন করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।’
অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপের কোম্পানি সচিব রেজাউল করিম জানান, বিজেএমসি তিন মাসের মধ্যে মিলটি বুঝিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এরপর কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করে এক বছরের মধ্যে দুটি কারখানাই চালুর প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
