শনিবার ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল দুপুরের মধ্যে আট জেলায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা ডক্টরস এসোসিয়েশনের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সেল্ফ সেন্সরশিপ নয়, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ প্রবাসীর একদিন পর মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামকে আধুনিক নগরী গড়তে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান সিডিএ চেয়ারম্যান ‘আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি ডিসেম্বরেই আসবেন, আইনের মুখোমুখি হবেন’ বগুড়ায় বাসচাপায় নিহত ৭ জনের পরিচয় মিলেছে টাইফুন ডলফিন : ৫০০ ফ্লাইট বাতিল, আড়াই লক্ষাধিক মানুষকে সরাল জাপান
Advertise with us

বিশ্বকাপে মেসিকে‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি:এফবিআইয়ের গোপন নথি ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিশ্বকাপে মেসিকে‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি:এফবিআইয়ের গোপন নথি ফাঁস

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে সপ্তাহ তিনেক হতে চলল। কিন্তু এর রঙিন সব স্মৃতি যেন এখনো টাটকা। গ্যালারিতে উন্মাদনা, মাঠে পারফরম্যান্সের ঝলক আর জয়ের পর উল্লাস। কিন্তু এই জমকালো আলোর নিচে যে থমথমে অন্ধকার জমে ছিল, ফুটবল–বিশ্ব তা হয়তো এতটা টের পায়নি। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যেন ঝুলছিল একটা সুতায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও অংশ নেওয়া দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিদিন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই গোপন নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। সেখান থেকেই জানা গেছে, বিশ্বকাপের অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে ও টুর্নামেন্ট চলাকালে ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন। টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সঙ্গী ‘হাতে বানানো বোমা ও এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁরা পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ওই কথিত সন্ত্রাসীর মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি।

আর্জেন্টিনার আরেকটি ম্যাচের আগেও ছড়িয়েছিল বোমাতঙ্ক। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকতে যাচ্ছি। নিজের শরীরে চারটা বোমা বেঁধে উড়িয়ে দেব মেসিকে।’

ম্যাচ চলার সময়ও পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফোন আসে। বলা হয়, স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে ‘তিনটি বোমা’ রাখা আছে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালাতে হয়।

আর্জেন্টিনার মহাতারকাকে ঘিরে যখন বোমাতঙ্ক, তখন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ভুগেছেন লাগাতার হয়রানির আতঙ্কে। গত ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর ‘খোঁজখবর’ নিচ্ছেন। ১৬ জুন হিউস্টনে পর্তুগাল দল যে হোটেলে উঠেছিল, সেখান থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কানাডার টরন্টোতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। রোনালদোর কাছে যেতে এক অনুরাগী তাঁর সঙ্গে লিফটে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আটকে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি সিআর সেভেনের সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন। মায়ামিতেও রোনালদোকে ঘিরে ধরার চেষ্টা হয়। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক তো সোজা মাঠেই নেমে পড়েন।

শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, মাঠের পারফরম্যান্স বা ভুলের কারণেও খেলোয়াড়দের পেতে হয়েছে হাড়হিম করা হুমকি। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এমবাপ্পেকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি পোড়ানো হয়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সুযোগ নষ্ট বা পেনাল্টি মিসের মতো মাঠের ভুলের খেসারতও দিতে হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে। আতলেতিকো মাদ্রিদের নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পেনাল্টি মিস করার পর কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজ বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি। স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ায় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও পেয়েছেন মারাত্মক হুমকি।

সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া দল। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মাইওং-বো ও পুরো দলকে একযোগে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হয়েছিল কড়া পুলিশ প্রহরায়।

তবে হুমকির সংখ্যার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ‘ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা’ পাঠানো হয়। এসব বার্তার সিংহভাগই ছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।

শুধু লেতেক্সিয়ার নন, ওই ম্যাচে ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে এই দুই রেফারির বাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়