সোমবার ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
চলচ্চিত্রকে আরও উন্নত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: তথ্য প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করা মিষ্টির আসনে উপনির্বাচন হবে ১২ নভেম্বর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককরোচ পার্টির সরকারি নির্দেশনায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছাড়ছেন পর্যটকেরা দুর্গাপূজাকে ঘিরে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার বিধবা কার্ড দেওয়া হলেও এমপির বউ সবার আগে পাবে: হাসনাত ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতের চেষ্টা করছি: প্রধানমন্ত্রী ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় স্কুল শিক্ষিকা নিহত সৌদি আরবের পাশে থাকবে ঢাকা জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ
Advertise with us

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ডে এসিডের ব্যবহার ও ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৭৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ডে এসিডের ব্যবহার ও ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি

রংপুর নগরীর তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এসিড কিংবা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার হয়নি বলে দাবি করেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। এমনকি ধর্ষনের প্রাথমিক আলামতও পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহ বিকৃতির জন্য অতিরিক্ত গরমের কথা বলছে পুলিশ। সেজন্য সব কিছুকেই সন্দেহে রেখে আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদন্ত সংস্থাগুলো। মামলাটির তদন্তভার এরই মধ্যে মহানগর কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, রংপুর জিলা স্কুলের অবসারপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এমনকি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতকে দেওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

রংপুর মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, মরদেহে কোনো এসিড বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি প্রাথমিকভাবেও ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, ছেলের পাশে তরল, মেযের মুখ কালচে হওয়া এবং গণপতি ও তার স্ত্রী প্রীতিলতার মরদেহ ছিল বিভৎস। এছাড়াও ঘরে ইয়াবা সেবন, সিগারেটের টুকরো, ফয়েলসহ আরও কিছু আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি। তারা জানিয়েছে, ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, আরও কেউ জড়িত ছিল কি না।

রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি সুমিত চৌধুরী বলেন, আইওকে লিখিতভাবে চারটি বিষয় খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেমন, মৃত্যুর সময়, মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। ফরেনসিক পোস্টমর্টেমের সময় চিকিৎসককে এসব বিষয় বিশেষভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মৃত্যুর প্রায় ৪২ থেকে ৪৪ ঘণ্টা পর আমরা মৃতদেহগুলোর কাছে যাই। ওই সময় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে এবং বাতাসে আর্দ্রতাও ছিল অনেক বেশি। এমন পরিবেশে মৃতদেহ খুব দ্রুত পচন বা ডিকম্পোজের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ কমিশনারের দাবি, দেবু দাসের বিল্ডিংয়ের দোতালার ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে যান সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

তবে খোলা ছাদে ইয়াবা সেবন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডিডি আবু জাফর বলেন, ইয়াবা হচ্ছে সাধারণত মূলত যে বিভিন্ন স্পট থাকে, যেখানে কয়েকজনে মিলেমিশে খাওয়া খায়। আর সাধারণত বেশিরভাগ সময় ইয়াবাটা হচ্ছে বন্ধ জায়গায় খায়। কারণ এটা বাতাসের সাথে যদি গন্ধ ছড়ানোর ভয় থাকে। তবে এর ব্যতিক্রম তো থাকতেই পারে।

আর সেদিনকার আবহাওয়া পরিস্থিতির বিষয় জানতে চাইলে আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ২১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। তবে মাঝে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের আলো দেখা গেছে।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি সুমিত চৌধুরী বলেন, পোল থেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বক্তব্য এটা।

আর উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুতের লাইনটি তারা বাড়িটিকে অন্ধকার করার জন্য বের হওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে। লাইনটি মিটারের কাছে কেটে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কাটার কারণে ওপরের দিকে শর্ট সার্কিট হতে পারে। বিষয়টি পুরোপুরি কারিগরি।

এদিকে, সংগৃহীত আলামত এখনও পাঠানো হয়নি ফরেনসিক ল্যাবে। আদালতের অনুমতির পর পাঠানোর কথা জানায় সিআইডি। প্রতিবেদনের পর দেওয়া হবে চার্জশিট।

সুমিত চৌধুরী বলেন, দুই আসামির ডিএনএ নমুনা স্যাম্পল নিতে হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ওসিসি থেকে তাদের ডিএনএ নমুনা নিতে হবে। এরপর এই নমুনা ও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত একসঙ্গে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়