
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ সুরঞ্জনসমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসি) একটি অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় দু’টি বিভাগের একাডেমিক ভবনেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় রসায়ন বিভাগের অন্তত চার শিক্ষার্থীসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মারামারির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম।
গতকাল (বুধবার, ২৬ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়। পরে তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। এক পর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এসময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং ভূমি ও আইন প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহাল উদ্দিন। কমিটিকে ঘটনাটি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
