
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত, অতিথি-দর্শনার্থী এবং সব ধরনের যানবাহন প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায় বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানা যায়। এ সময় তাদের হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে কিছুটা দূরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাদের ছবি এবং ‘সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ লেখা ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক দাবি করেন, প্রদর্শনীতে থাকা জুডিশিয়াল কিলিং-সংক্রান্ত ছবিগুলো সরিয়ে নিতে ছাত্রদল চাপ দেয়। বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হলেও তারা তা না করে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে পুনরায় হামলা হলে তারা আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেগুলো অপসারণের দাবি জানালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন, যাতে তাদের একজন আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের এনে হামলা চালিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো যেন কেউ ভুলে না যায়, তবে একই সঙ্গে আর কোনো শিক্ষার্থী যাতে আহত না হয়, সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয় না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আবেদন করা হলে প্রশাসন সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিয়ে থাকে।
