বুধবার ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের প্রতি সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথ নিলেন নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্য ১০০ টাকায় করা যাচ্ছে অটোরিকশার নিবন্ধন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাইশার মোবাইল কাভারে লেখা ছিল ‘শরতের ঝরা পাতার মতো মৃত্যু’ ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে জামায়াত-এনসিপি বাংলাদেশে কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না: রাশেদ খাঁন সীতাকুণ্ডে বাস দুর্ঘটনায় আইআইইউসি ছাত্রী নিহত, আহত ২ গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত করতে কিছু মহল উসকানি দিচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার;তথ্য উপদেষ্টা
Advertise with us

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার ২ বছর: নয় আসামি জামিনে, ‘হদিস নেই’ ১৭ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৮৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার ২ বছর: নয় আসামি জামিনে, ‘হদিস নেই’ ১৭ জনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার দুই বছর হলেও এখনো শুরু হয়নি বিচার। দেশজুড়ে আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই।

তাদের মধ্যে নয়জন জামিনে এবং ১৭ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া কারাগারে রয়েছেন দুজন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না, সে বিষয়ে গত ২৩ অগাস্ট দিন ধার্য থাকলেও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। নতুন করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সেই তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তোফাজ্জলের মামাতো বোন আসমা আক্তার তানিয়া বলেন, ‘দুই বছর হয়ে গেছে এখনো বিচার শুরু হয়নি। আমাদের তো একটা ক্ষোভ থাকতেই পারে। আমরা বিচার চাই।’

প্রতি ধার্য তারিখে মামলার খোঁজ নেওয়ার কথা তুলে ধরে বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমরা চাই, প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।’

তদন্তকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার তদন্ত শেষে ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন। পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এরপর আর তদন্ত কর্মকর্তার দায়-দায়িত্ব থাকে না। অভিযোগপত্রে আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট থানা পলাতকদের খুঁজে বের করবে।’

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘মামলাটা বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে অভিযোগ গঠন হবে। এরপর সাক্ষীদের হাজির করে মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব, যেন ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায়।’

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, ‘পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন এখনো আসেনি। প্রতিবেদন আসলে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।’

তোফাজ্জলকে হত্যা করা হয় ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে। ওই ঘটনার ভিডিও-ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

হত্যার পর দিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার আমানুল্লাহ। মামলা তদন্ত করে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন শাহবাগ থানার ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীর নাম আসে। তবে ওই অভিযোগপত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি আবেদন দেন। এরপর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সেসময়ের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পিবিআইকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরো সাতজনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।

এদের মধ্যে রেদোয়ানুর রহমান, রাশেদ কামাল, আবু রায়হান, মনিরুজ্জামান, আহসান উল্লাহ, সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন, ওয়াজিবুল ও রমজান আলী জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। বাকি ১৭ আসামি পলাতক।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়