রবিবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিশু হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী, কক্ষে ধূমপান করতে দেখেই চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন অবান্তর ও হাস্যকর: বিমানমন্ত্রী ফ্যাসিস্টরা ও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অনেক ক্ষতি করেছে: বিমানমন্ত্রী কক্সবাজার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৬ জন নিহত কুড়িগ্রা‌ম সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ‘আবারও বিয়ে করে ফেললেন অভিনেত্রী চমক’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অভিজিৎ দীপকেকে আদালতে তোলা হবে আজ অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল ফেরির কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে দু’পাড়ের মানুষ নিহত সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা দায়ের
Advertise with us

ধ্বংসলীলার মাঝেও অক্ষত নেপালের ফিরোজা রঙের ছো্ট্ট একটি বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ধ্বংসলীলার মাঝেও অক্ষত নেপালের ফিরোজা রঙের ছো্ট্ট একটি বাড়ি

ধ্বংসলীলার মাঝেও অক্ষত থেকে সারা বিশ্বের মানুষের নজরে নেপালের ফিরোজা রঙের ছো্ট্ট বাড়িটি। মাটিতে মিশে যাওয়া ত্রিশূলী বাজার এলাকায় অলৌকিকভাবে টিকে গেছে এই একটি স্থাপনা। জয়জয়কার উঠেছে বাড়িটির স্থাপত্য নকশা ও মজবুত নির্মাণশৈলীর।

হিমালয়ের বিশাল এক খণ্ড হিমবাহের আঘাতে গেলো বুধবার (২৬ আগস্ট) যখন নজিরবিহীন ঢল নামে নেপাল-চীন সীমান্তে, তখন মুহূর্তে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল পাথুর-কাদামাটি-গাছপালা আর বাড়িঘর-গাড়িঘোড়ার ধ্বংসাবশেষ। তাসের ঘরের মতো ভেসে যায় রাস্তাঘাট, সেতু, ভবনের মতো ভারী ভারী স্থাপনাও। সেই নারকীয়তার ঠিক মাঝখানে শক্ত হয়েই দাঁড়িয়ে ছিল একটি বাড়ি।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উজান থেকে নেমে আসা হিমালয়ের ঢলে ভয়ার্ত চোখে সবকিছু উজাড় হতে দেখছিলেন বাসিন্দারা। ভেবেছিলেন, মৃত্যু আসন্ন। কিন্তু প্রবল দুর্যোগকে উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত টিকে যায় বাড়িটি, অক্ষত বাসিন্দারাও। পরে তাদের উদ্ধার করে সরিয়ে নেয় প্রশাসন। দিনপাঁচেক পরে ফিরে এসে অবিশ্বাসের চোখে দেখতে পান প্রলয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন সাজানো সংসারের ধ্বংসাবশেষ। যদিও মৃত্যুর মিছিলের মাঝে পুরো পরিবার বেঁচে থাকায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি জানান কৃতজ্ঞতা।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা ভাবিনি বেঁচে ফিরবো। আমার পাঁচজনের পরিবার। ছেলে স্কুলে ছিল। যদি আমরা বাঁচি, সবাই বাঁচবো; মরলে সবাই একসঙ্গে মরবো। ভেবেছিলাম ছেলেটা অনাথ হয়ে যাবে। মনে মনে “ওম নমঃ শিবায়” জপ করছিলাম।’

শুধু নেপালে নয়, নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী বাজার এলাকায় অবস্থিত ফিরোজা রঙের ছোট্ট বাড়িটি ধ্বংসলীলার মধ্যে টিকে থাকার অনন্য সাধারণ প্রতীক হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বে। ‘অলৌকিক’ খেতাব পাওয়া বাড়িটির জয়জয়কার উঠেছে স্থাপত্য নকশা ও মজবুত নির্মাণশৈলীর জন্যও।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমি এখন খুব খুশি। পরিবারটা নতুন জীবন পেয়েছে। আমরা সবাই ভালো আছি- আমার মা, মেয়ে, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী। প্রতিবেশীরাও ভালো আছেন। আমরা আজ বাড়িটা দেখতে এসেছি।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা ঈশ্বরের নাম জপ করছিলাম আর ভাবছিলাম, এটাই শেষ। এই শেষবার আমরা একসাথে আছি, এবং পরিবার হিসেবে আমাদের যতোটা সম্ভব একসঙ্গে বসে থাকা উচিত। এটাই আমাদের শেষ মুহূর্ত। এই কথাগুলোই চলছিল আমার মনে।’

বরফ, পাথর, কাদা আর ধ্বংসাবশেষের সর্বনাশা ঢলে একরকম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে নেপালের মাইলের পর মাইল এলাকা, ধ্বংসের চিহ্ন প্রকট সীমান্তের ওপারে চীনেও।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়