
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের আত্ম-সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। তারা যেন সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের উৎপীড়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারও জমি জোর করে দখল করা যাবে না। জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।’
আজ (মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন।’
গত ১৭-১৮ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিলো। তিনটি নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। ক্ষমতায় চিরদিন থাকা যাবে— এমন ধারণা থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং সাবেক ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।’
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।
বাকস্বাধীনতার বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘বর্তমানে মানুষ সরকারের পাশাপাশি সরকারপ্রধানেরও সমালোচনা করতে পারছেন। তবে সমালোচনা হতে হবে ন্যায্য ও গঠনমূলক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘গত ১৭-১৮ বছরের দুঃশাসনের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এ সরকার যেন জনকল্যাণে কাজ করতে পারে, সেজন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। নির্বাচনি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই তার প্রধান চিন্তা।’
কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, চাঁদাবাজি করতে না পারে কিংবা জোরপূর্বক জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘মাদক ও দুর্বৃত্ত দমনে ইশরাক হোসেনের উদ্যোগ ভালো ছিলো। তিনি পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। এটি তার পদমর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়। একজন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বডিগার্ড ও পুলিশ সদস্য থাকেন। প্রয়োজনে দলীয় কর্মীরাও সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু একজন মন্ত্রী বা নেতার হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ কোনো অস্ত্রই শোভা পায় না।’
এদিকে লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। দলের বড় কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
লালমোহন ও তজুমদ্দিনে আর মাদকের বিস্তার দেখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এলাকায় মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।’
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘মুসলমান হিসেবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দেয়া ও সহযোগিতা করা পবিত্র দায়িত্ব। প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। অন্য ধর্মের মানুষের ওপর যেন কেউ অত্যাচার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’ এসময় তিনি দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান।
আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে ৩৭টি দেশ সদস্য উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘এ গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো হয়েছে এবং বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্পিকার ১৫০ জন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। পরে বিকেলে লালমোহনের মঙ্গল সিকদারে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন এবং সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি ছিলো।
