শনিবার ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

তিন দশকে ভয়ংকর এডিস; ডেঙ্গু এখন আঞ্চলিক মহামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

তিন দশকে ভয়ংকর এডিস; ডেঙ্গু এখন আঞ্চলিক মহামারি

দেশে ডেঙ্গুর আবির্ভাবের সঠিক তথ্য না থাকলেও ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে শনাক্ত হয় এডিস। সেই হিসেবে প্রায় ৩০ বছরে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে মশাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, দেড় দশকে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৮১০ জনের। যার মধ্যে ৩ হাজার ২২৩ জনই গত ৫ বছরের। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে খুব কম সময়েই বংশ বিস্তার করছে এডিস। এটিকে আঞ্চলিক মহামারি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোনোভাবেই কমছে না ডেঙ্গুর সংক্রমণ। হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার রোগী। প্রতিদিনই মৃত্যুর খাতায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।

১৯৬৪ সালে প্রথম দেখা দেয়া অজানা জ্বর, পরে শনাক্ত হয় এডিস মশাবাহিত রোগ হিসেবে। এরপর প্রথম আউটব্রেক ২০০০ সালে। সেবছর মৃত্যু হয় ৯৩ জনের। তবে বর্তমান অবস্থাকে অ্যান্ডেমিক বা আঞ্চলিক মহামারি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু মশার আবির্ভাব নিয়ে ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে গবেষণা হয় বলে জানা যায়। সেসময়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ইন্দ্রানী ধর জানান, ১৯৯০ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার মেগা উন্নয়নের দিকে যাওয়া সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সঙ্গে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, এমনকি ভারতেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা যায়।

ঐ দেশগুলো থেকে বড় কার্গো জাহাজে এডিস মশা বাংলাদেশে আসছে কি-না তা জানতেই তখন গবেষণা শুরু করেন তিনি।

পরবর্তীতে আরও গবেষণায় দেখা যায়, এক সময় এডিস মশার ১৪ থেকে ১৭ দিনের জীবনচক্র বর্তমানে নেমে এসেছে ১১-১৩ দিনে। একারণে কমছে না মশার ঘনত্ব।

কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রানি ধর বলেন, ‘মশারা জীবন বাঁচানোর জন্য নতুন কিছু মাধ্যম অবলম্ভন করছে। ফলে তারা নতুনভাবে বাঁচতেছে।’

পাশাপাশি গত কয়েক দশকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে । ১৯৯৭ সাল থেকে বর্তমানে তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। উষ্ণ পরিবেশ, সঙ্গে আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের বৈচিত্র্যসহ নানা কারণে এডিশ মশা পাচ্ছে বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক যে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে যার ফলে আমাদের দেশে সারা বছর এর প্রভার পরেছে। আগে শীতে ডেঙ্গু হতো না কিন্তু বর্তমানে শীতেও ডেঙ্গু হচ্ছে।’

২০০০ সালে প্রথম মৃত্যুর পর থেকে ভয়াবহ এ জ্বরে এ পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে প্রায় ৪ হাজার জনের। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ জনই মারা গিয়েছে গেল ৫ বছরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিবছরই ডেঙ্গুর ধরন পাল্টাচ্ছে। আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রোগটিতে আক্রান্তের বেশি ভাগই ডেন-২ টাইপের। আগের দুই বছর বেশি প্রভাব ছিলো ডেন-৩ ও ডেন-৪ এর। ফলে ভিন্ন ভিন্ন ধরনে একাধিকবার আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্চুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যখন ডেন-৩ ও ডেন-৪ হলো এর পর থেকেই ডেঙ্গুর মাত্রা বেড়ে গেলো।’

২০০০ সালে প্রথম মৃত্যু হলেও ২০০৩ সাল থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ছিলো ডেঙ্গুর সংক্রমণ। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কিভাবে সফল হয়েছিলো তখনকার প্রশাসন?

কীটতত্ত্ববিদ ড. ইন্দ্রানি ধর বলেন, ‘যে সব স্থানে মশার বিস্তার হচ্ছে সে সব স্থান থেকে মশার প্রজনন করার কারণ কি তা বের করা।’

এক দশক আগেও ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ হতো জুন-জুলাইতে, বর্তমানে তা সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। এখন কমবেশি সারা বছরই থাকছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। ছড়িয়েছে দেশের ৫৭ জেলায়। এ অবস্থায় মৌসুমভিত্তিক পরিকল্পনার বাইরে বছরব্যাপী পরিকল্পনার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়