
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নেপাল ও তিব্বতে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যার ৩৭ দিন পর নিখোঁজ এক মালয়েশীয় নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মালয়েশিয়া সলিডারিটি ফ্যামিলিজ ইন হোপ (মাসফিহ) নামের ওই সংগঠনটি গতকাল (শুক্রবার, ২ অক্টোবর ) জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তি একজন চীনা-মালয়েশীয় সোলো ট্রাভেলার (একাকী ভ্রমণকারী)। তিনি নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন। নিরাপদে ফিরে আসার পর তিনি কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে যোগাযোগ করেন।
মাসফিহ-এর মুখপাত্র মণিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘৩৭ দিন পর একজন মালয়েশীয় নাগরিককে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া মাসফিহ ও অন্য পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও অর্থবহ একটি ঘটনা।’
ল্যাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে ও বরফধসের ফলে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো দেশটিতে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রতিবেশী তিব্বত ও চীনেও নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ফলে যে শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তা ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য। এর ফলেই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।
গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বন্যার পর কাঠমান্ডু দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ হওয়ার ৩৭ দিন পর তাদের মধ্যে একজন দেশে ফিরে এলেন।
রেথিনাম বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে ওই ব্যক্তি গত ২৫ আগস্ট বেলা ৩টা ২৬ মিনিটে নাগথালি ভিউপয়েন্টে ছিলেন। এর পরদিনই ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে।’
তার স্বজনদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তিনি সেখানে সাময়িকভাবে আটকে পড়েছিলেন।
উপদ্রুত এলাকাগুলোয় যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টির বেশি দেশের নাগরিকেরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের পর্যটন দপ্তরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫৪ জন মালয়েশীয়, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৩৭ জন চীনা, ৩৩ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন লাটভীয়, ৩২ জন ব্রিটিশ এবং ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা অথরিটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ব্যাপক আকারে ডিএনএ শনাক্তকরণ কর্মসূচি চালু করার পরও মরদেহগুলো শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, প্রাথমিক পুনর্গঠন কাজের জন্য নেপালের প্রায় ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।
রেথিনাম বলেন, তাদের সংগঠন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘এই অনুরোধ কেবল আমাদের উদ্বেগ প্রকাশের জন্য নয়, বরং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য।’
