
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মালয়েশিয়ায় আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এবার কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মাসিক ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা) মূল বেতনে ১১২ জন কর্মী নিয়োগ দেবে দেশটির বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন।
এ জন্য ‘অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ ও ‘টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার’ পদে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (মালয়েশিয়া) এসডিএন বিএইচডির অধীনে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
আগ্রহী প্রার্থীরা শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত বোয়েসেলের অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
পাশাপাশি থাকতে হবে বৈধ পাসপোর্ট। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য চাকরির চুক্তি হবে, যা পরবর্তী সময়ে নবায়নের সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচিত কর্মীদের সপ্তাহে ছয় দিন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম দেওয়া হবে। নিয়োগকর্তা কর্মীদের আবাসন, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থাও করবেন।
অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে আবেদনের জন্য কমপক্ষে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রার্থীদের প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা এবং গুদামে কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ফর্কলিফট, পাওয়ার প্যালেট ট্রাক ও রিচ ট্রাক পরিচালনায় দক্ষ প্রার্থীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার পদে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমান। তবে ইলেকট্রিক্যাল, ভোকেশনাল, পলিটেকনিক কিংবা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ পদের জন্য গুদাম পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তির সরঞ্জাম, মাইক্রোসফট এক্সেল এবং ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা প্রয়োজন।
বোয়েসেল জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জনকে বাছাই করা হবে। এই তালিকা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কারিগরি ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত ১১২ জনকে নির্বাচন করবেন। একজন প্রার্থী কেবল একটি পদেই আবেদন করতে পারবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত কর্মীদের কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। নিয়োগের নামে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে বোয়েসেল।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগের আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে বৈঠকেও তিনি জানান, বোয়েসেলের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের কোনো অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না। নিয়োগের সব খরচ মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা দেবেন। অর্থাৎ কর্মীদের এক টাকাও খরচ করতে হবে না।
বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে মোট ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়েও কাজ করছে সরকার।
এদিকে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগের সুযোগ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। বরং সব লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান। তবে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর কারণে বাংলাদেশ এককভাবে নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারবে না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে তাদের জন্য অভিবাসন ব্যয়ের পরিমাণও চূড়ান্ত করা যায়নি।
তিনি বলেন, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে রয়েছে। বাংলাদেশ যত বেশি সম্ভব লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জন্য দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
