মঙ্গলবার ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নৌপথে ঈদযাত্রা: নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় কতটা প্রস্তুত সদরঘাট?

ঢাকার আকাশে তখনও সকালের মেঘের ছাপ। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দাঁড়িয়েই বোঝা যাচ্ছিল, ঈদযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কেউ হাতে বড় ব্যাগ, কেউ শিশুকে কোলে নিয়ে লঞ্চের দিকে হাঁটছেন।

কোথাও রং করা পন্টুন, কোথাও শ্রমিকদের শেষ মুহূর্তের মেরামত কাজ। মাঝেমধ্যে ভেসে আসছে লঞ্চের সাইরেন। ভিড় এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, তবে ঘাটের বাতাসে স্পষ্ট আর কয়েকদিন পরই এখানে উপচে পড়বে মানুষের ঢল।

নৌপথে ঈদযাত্রায় থাকছে-

১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি
প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত, বিশেষ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা
২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ডিএমপি যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে
সদরঘাটে ৪-৫টি কন্ট্রোল রুম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সদরঘাটে কথা হয় বেসরকারি একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমানের সঙ্গে। স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকেন তিনি। এবার ঈদযাত্রার চাপ শুরুর আগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘ঈদের সময় শেষ মুহূর্তে অনেক ভিড় হয়। ছোট বাচ্চা আর বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে তখন যাওয়া কষ্টকর। তাই আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছি। এতে ওরা আরামে যেতে পারবে, গ্রামে গিয়ে পশু কেনাকাটা আর আত্মীয়দের সঙ্গে সময়ও কাটাতে পারবে।’

শেষ কর্মদিবস ২৪ মে, এরপরই বাড়বে যাত্রীর চাপ

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে ২৪ মে (রোববার) হবে ঈদের আগে শেষ অফিস দিবস। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ওই দিন বিকেল থেকেই নদীপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রীর জন্য প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। সেই চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু লঞ্চও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ সার্ভিস হিসেবে চালানো হবে।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২১ মে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হবে। ২৪ মে থেকে যাত্রীচাপ পুরোপুরি বেড়ে যাবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

ঘাটজুড়ে সংস্কার, বেড়েছে বুড়িগঙ্গার পানিও

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাটের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে সংস্কার কাজ চলছে। কোথাও পন্টুন মেরামত, কোথাও রেলিং ঠিক করার কাজ। অধিকাংশ লঞ্চ ঈদুল ফিতরের আগেই রং ও সংস্কার করায় এবার বাড়তি বড় কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়েনি।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বুড়িগঙ্গার পানি বেড়েছে। এতে নদীতে নতুন পানি আসায় আগের তুলনায় দুর্গন্ধ অনেকটাই কমেছে। পানি বাড়ায় পন্টুনগুলোও তুলনামূলক উঁচু অবস্থানে এসেছে, ফলে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা কিছুটা সহজ হয়েছে।

ঘাটের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ও সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো হয়েছে। যদিও এখনো বাড়তি নিরাপত্তা চোখে পড়েনি, তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ২১ মে থেকে সমন্বিতভাবে ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হবে।

ঘাটের পন্টুন এলাকায় যাত্রী টানাটানি ও বিশৃঙ্খলা রোধে এবার কড়াকড়ি আরোপের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও সরেজমিনে এখনো ঘাটের বিভিন্ন স্থানে হকারদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘পন্টুন এলাকা সম্পূর্ণ ক্যানভাসার ও হকারমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যাত্রীদের জোর করে লঞ্চে তুলতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, নদীতে টহল

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে। র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

‘গত ঈদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীতে নিয়মিত টহল থাকবে। বিশেষ করে ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুনের পেছনে কোনো নৌকা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।’ এমন কথা বলেন মোবারক হোসেন।

তিনি বলেন, সদরঘাট এলাকায় চার থেকে পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এছাড়া মোবাইল টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে কাজ করবে।

যাত্রীসেবায় পরিকল্পনা

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারও বিভিন্ন সেবা চালু রাখছে বিআইডব্লিউটিএ। প্রতিটি প্রবেশপথে থাকবে হুইলচেয়ার। মালামাল বহনের জন্য থাকবে ট্রলি সেবা। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা ও বয়স্ক যাত্রীদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত ক্যাডেট নিয়োজিত থাকবে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কুলিদের হয়রানি বন্ধে। এ বিষয়ে মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘১০ দিনের জন্য ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কুলি নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা নীল জ্যাকেট পরিহিত থাকবেন। যাত্রীরা বিনামূল্যে তাদের সেবা নিতে পারবেন। কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ থেকেও চলবে লঞ্চ

সদরঘাটে যাত্রীদের চাপ কমাতে এবারও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও প্রতিদিন অতিরিক্ত চারটি করে লঞ্চ চলাচল করবে।

কর্তৃপক্ষের আশা, এতে সদরঘাটের ওপর চাপ কমবে এবং যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করে তুলনামূলক স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবেন।

ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নয়, অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধেও কড়াকড়ি

ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস, কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লঞ্চভাড়া নতুনভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। এতে কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা এবং বেশি দূরত্বে ১৪ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী কম দূরত্বে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বেড়ে ২.৭৭ টাকা থেকে ২.৯৫ টাকা এবং বেশি দূরত্বে ২.৩৮ টাকা থেকে ২.৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়াও ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও নৌপরিবহনের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়াও ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হয়।

নতুন ভাড়া ৫ মে থেকে কার্যকর হয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

ঢাকা নদীবন্দর থেকে নতুন র্নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী প্রধান রুটগুলোতে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরিশাল রুটে ডেক শ্রেণির জনপ্রতি ভাড়া ৩৯৭ টাকা, পটুয়াখালীতে ৫০৩ টাকা এবং ভোলা রুটে ৩৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঝালকাঠি রুটে ভাড়া ধরা হয়েছে ৫১৩ টাকা।

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট বরগুনায় যাত্রীভাড়া ৬৫৮ টাকা এবং চাঁদপুর রুটে ২৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দূরত্ব ও রুটভেদে এই ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

আরও পড়ুন ঈদে সদরঘাটে কুলি সেবা ফ্রি, থাকবে ২০০ স্বেচ্ছাসেবক বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ-নির্বিঘ্ন করতে সরকার কাজ করছে: নৌমন্ত্রী সদরঘাটে যাত্রীচাপ কম, লঞ্চে কেবিন ফাঁকাসদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ফাইল ছবি

টিকিট বিক্রি কম, পরিচিত যাত্রীরাই আগে বুকিং দেন

ঈদ সামনে রেখে সদরঘাটে যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করলেও লঞ্চে অগ্রিম টিকিট বিক্রির চিত্র খুব বেশি দেখা যায় না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীপথের যাত্রীরা সাধারণত নিয়মিত নির্দিষ্ট লঞ্চে যাতায়াত করেন। ফলে অনেকেই আগে থেকেই পরিচিত লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেবিন বা সিট বুকিং দিয়ে রাখেন।

সদরঘাটের একটি টিকিট কাউন্টারের কর্মী মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘বাস বা ট্রেনের মতো এখানে খুব বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় না। যারা নিয়মিত যাত্রী, তারা আগে থেকেই পরিচিত লঞ্চে যোগাযোগ করে কেবিন বুকিং দিয়ে রাখেন। ঈদের সময় মূল চাপটা পড়ে শেষ দুই-তিন দিনে।’

বরিশালগামী যাত্রী নাজমুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর একই লঞ্চে যাই। তাই কাউন্টারে এসে টিকিট কাটার চেয়ে আগেই পরিচিত লোকের মাধ্যমে কেবিন ঠিক করে রাখি। এতে ঝামেলাও কম হয়।’

ভোলাগামী গৃহিণী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘পরিবার নিয়ে যাত্রা করলে আগে থেকে কেবিন ঠিক করে রাখাটাই নিরাপদ। শেষ মুহূর্তে ভালো জায়গা পাওয়া কঠিন হ

এ. খান-৭ লঞ্চের পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নিয়মিত যাত্রীরা সাধারণত সরাসরি যোগাযোগ করেই বুকিং দিয়ে থাকেন। ঈদের সময় কেবিনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সেবা দিতে।’

এদিকে নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নদীপথের ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরের অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করতে মালিকপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকবে। নতুন ভাড়া অনুযায়ী লঞ্চ চলবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ থাকবে না। বিষয়টি নিয়মিত মনিটর করা হবে।’

লঞ্চ মালিকদের প্রস্তুতি

এ. খান-৭ লঞ্চের পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা সামনে রেখে আমরা লঞ্চের সব ধরনের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। লঞ্চের ফিটনেস, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সবকিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারেন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার প্রতিনিধি মোহাম্মদ হান্নান খান বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মালিকরা প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে প্রায় ১৮০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০টি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো নিয়েও সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে।’

স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত হবে তো, প্রশ্ন যাত্রীদের?

ঈদযাত্রা যত ঘনিয়ে আসছে, সদরঘাটে ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। প্রস্তুতির কমতি নেই। নিরাপত্তা, সেবা, নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত লঞ্চ, বিকল্প ঘাট; সবই সাজানো হচ্ছে বড় যাত্রীচাপ সামাল দেওয়ার জন্য। তবে বাস্তবে সেই প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, তা বোঝা যাবে ২৪ মে’র পর থেকেই।

কারণ ঈদের নদীপথের যাত্রা শুধু ঘাট আর লঞ্চের গল্প নয়; এটি লাখো মানুষের ঘরে ফেরার আবেগ, স্বস্তি আর নিরাপদে পৌঁছানোর প্রত্যাশার গল্পও।

বরিশালগামী যাত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘আগের চেয়ে ঘাট একটু পরিষ্কার মনে হচ্ছে। পানি বাড়ায় ওঠানামাও সহজ হয়েছে। তবে ভিড় বাড়লে কী হবে সেটা নিয়ে চিন্তা আছে।’

চাঁদপুরগামী কলেজছাত্র রাকিব হাসান বলেন, ‘যদি নিরাপত্তা ঠিকভাবে থাকে আর অতিরিক্ত ভাড়া না নেয়, তাহলে নদীপথই সবচেয়ে আরামদায়ক যাত্রা।’

আরেক যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, ‘ঈদের সময় কুলিদের ঝামেলা বেশি হয়। বিনামূল্যে কুলির ব্যবস্থা সত্যি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সদরঘাটসহ বিভিন্ন যাতায়াতকেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লঞ্চ টার্মিনালে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকবে। টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, যাতায়াতকেন্দ্রিক এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী ২২ মে থেকে শুরু হবে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি থাকবে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্য মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়