বুধবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া সড়কে সাত মাসে ১১১টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির মানুষ সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেতে, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘সৌদি আরবের দুটি সামরিক পরিবহন বিমানে হামলা’ মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের এলঅ্যান্ডটি নতুন পে স্কেলে সিনিয়রের চেয়ে জুনিয়রের বেতন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা সরকার শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ডিএসসিসি রাজশাহী অনুমোদনহীনভাবে সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ল
Advertise with us

জাপানি মডেলে কড়াইল-ভাষানটেক বস্তির উন্নয়ন, প্রস্তুত হচ্ছে মেগা প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১০ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জাপানি মডেলে কড়াইল-ভাষানটেক বস্তির উন্নয়ন, প্রস্তুত হচ্ছে মেগা প্রকল্প

রাজধানীর কড়াইল, সাত তলা ও ভাষানটেক বস্তি এলাকায় আধুনিক ‘স্যাটেলাইট টাইপের সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাপানের ‘স্লাম ডেভেলপমেন্ট’ (বস্তি উন্নয়ন) মডেল এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের আধুনিক আবাসন ব্যবস্থাকে অনুসরণ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া, চীনের সাংহাই সিটির আদলে পুরান ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করতে ‘রি-জেনারেশন’ বা পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

গত ১ জুন সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাপানি মডেলে স্যাটেলাইট সিটি

সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, রাজধানীর সবচেয়ে বড় তিন বস্তি— কড়াইল, ৭ তলা ও ভাষানটেক এলাকায় আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মালিকানাধীন কড়াইল বস্তির জমিতে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে। এর আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা), যা খুব শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কড়াইল, ৭ তলা ও ভাষানটেক এলাকায় স্যাটেলাইট টাইপের সিটি তৈরির লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবের সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেজেন্টেশন (উপস্থাপন) জমা দিতে বলা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সাংহাই সিটির আদলে পুরান ঢাকা

পুরান ঢাকা এলাকাকে উন্নত বিশ্বের ‘রি-জেনারেশন কনসেপ্ট’ অনুযায়ী সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, চীনের সাংহাই সিটির আদলে পুরান ঢাকাকে গড়ে তোলার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি নতুন পিডিপিপি (প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ‘ঢাকা রি-জেনারেশন প্রজেক্ট’-এর কারিগরি প্রস্তাবনা (টিএপিপি) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজউক ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া, বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য ‘ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্ট ফর রিভাইটালাইজেশন অব ওল্ড ঢাকা’ শীর্ষক আরেকটি প্রস্তাবনা নিয়ে গত ১১ মে সচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে রাজউকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জিয়া উদ্যানের কাজ ৬ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, মূল সমাধিস্থলের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাইরের পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে। বর্তমানে পরিচালন বাজেটের আওতায় কাজটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তৈরির কাজ চলছে। সভা থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জিয়া উদ্যানের যাবতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১৫ জুনের মধ্যে সচিবালয়ের মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করার নির্দেশ

সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, জিপিওসহ বাংলাদেশ সচিবালয়কে একীভূত করে প্রণীত বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাস্টার প্ল্যান করে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দেন।

বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শেরে বাংলা নগরস্থ সংসদ সচিবালয়ের সাইটে সম্ভাব্যতা যাচাইমূলক একটি প্রাথমিক ধারণাগত নকশা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তরকে মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মিন্টো রোডে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন

রাজধানীর মিন্টো রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নির্মাণের জন্য পূর্ণাঙ্গ নকশা প্রণয়ন করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, সচিব এবং প্রধান স্থপতির উপস্থিতিতে এক সভায় এই নকশা উপস্থাপন করা হয়েছিল।

নকশাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নকশা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজু বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়ী থাকবেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়