সোমবার ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
চট্টগ্রামে বেড়েছে ভয়াবহ গ্যাস সংকট ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়লো ‘আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা’, সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারিয়েছেন ১০ হাজার শ্রমিক বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪ ৭ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সার জব্দ,আটক ২৩ আরব আমিরাতে বাতিল হচ্ছে বাংলাদেশিদের ভিসা, যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮
Advertise with us

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চালুর উদ্যোগ ঢাকাসহ বড় শহরে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস চালুর উদ্যোগ ঢাকাসহ বড় শহরে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় জেলা শহরগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বড় জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনব্যবস্থা চালুর বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবও তৈরি করেছে। ‘বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াতব্যবস্থা প্রকল্প’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে ১৪ জুলাই প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়।

মাউশি বলেছে, বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হলে তা সম্পন্ন করার পর পাইলটিং করা হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে শুরু হবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া।

সার্বিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাউশির পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, ‘বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৩ হাজার ৯৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনে কিছু বাস রয়েছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বা পরিকল্পিত যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের সাধারণ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট, অনিয়মিত চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে বড় জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট রুটের আওতায় এনে গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনা করে সম্ভাব্য রুট নির্ধারণ করা হবে। নির্দিষ্ট স্টপেজ ও সময়সূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালুরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এই বাস সার্ভিস চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে পাইলটিংয়ের পর বাসের রুট, ভাড়া ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

১৩টি সিটি করপোরেশন হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া।

শিক্ষাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত গণপরিবহনব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও ভাড়ায় চালিত ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে অভিভাবকদের পরিবহন ব্যয়ও কমবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ ও যানজট কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে। তাঁরা আরও বলছেন, প্রথম পর্যায়ে বড় জেলা শহরগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শহরেও তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

জানতে চাইলে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজটও কমে আসবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রুট নির্ধারণ, পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এটি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী গণপরিবহনব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে শুধু বাস কিনলেই হবে না, পুরো একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, বাস কেনার সময়ই প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে বাসগুলো অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়