
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কুমিল্লায় ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীমউদ্দিন। গ্রেপ্তার নাজমুল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের হেদায়েত উল্লাহর ছেলে।
তিনি রেলওয়ের স্থায়ী গেইটম্যান হলেও সেদিন তার ডিউটি ছিল না, তিনি টাকার বিনিময়ে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যানের বদলি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার ঈদ উল ফিতরের দিন ভোর ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আটজন।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলের গেইটের দুই দায়িত্বরত কর্মচারী হেলাল উদ্দীন ও মেহেদী হাসানকে বরখাস্ত করা হয়।
পরে সোমবার পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও ওয়েম্যান মেহেদী হাসানকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার। শেফালী দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানার খালা। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু, ৩০৪ ধারার ক’ আইনে মামলাটি করেন শেফালী আক্তার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মামলার এক নম্বর আসামি হেলাল উদ্দীনকে কুমিল্লার শশীদল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি জসীমউদ্দিন বলেন, “ঈদের দিন গেইটে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেইটম্যান হেলাল ও মেহেদী দায়িত্ব পালন না করে এক হাজার টাকায় বদলি হিসেবে অস্থায়ী গেইটম্যান কাওসার ও স্থায়ী গেইটম্যান নাজমুলকে ঠিক করেন; যাদের সেদিন ডিউটিই ছিল না।
“কাওসার ও নাজমুল ওই রাতে পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের গেইটম্যানের কক্ষে থাকলেও তারা রাত পৌনে ৩টায় ঢাকা মেইল ট্রেন আসার আগে গেইট বন্ধ করেনি। তবে কেন তারা সেটি করেননি তা নিয়েও তদন্ত চলছে।”
পদুয়ার বাজার রেললেভেল ক্রসিংয়ের গেইটের কক্ষে মাদকের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে দাবি জসীমউদ্দিনের।
এ ঘটনায় বুধবার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর থেকে কাওসার আলমকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। কাওসার দিনাজপুর জেলার আবদুস সালামের ছেলে। মামলার তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী মেহেদী হাসান এখনো পলাতক রয়েছে।
ওসি জসীমউদ্দিন বলেন, গেইটম্যান আগের স্টেশন থেকে সিগন্যাল পেয়েছে কি না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার আসামি মেহেদী হাসান এখনো পলাতক রয়েছে। হেলালকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
