নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবিনামা বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের ৯ সদস্যের বিশেষ কমিটি তিনটি সুপারিশ পেশ করেছে।
চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রেলভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (প্রকৌশল) কার্যালয়ের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম-মহাপরিচালক (প্রকৌশল) মো. আসাদুল হক। সভায় ১৮৯০ সালের প্রাগৈতিহাসিক রেলওয়ে আইন সংশোধনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা তাদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে রেল উপদেষ্টার কাছে ১২ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রেলওয়ের শ্রমিকদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– সরকারি গেজেটেড সব ছুটিসহ সাপ্তাহিক ২ দিন (শুক্র ও শনিবার) ভোগের আদেশ জারি করা অথবা ওই সব ছুটির দিনগুলোর জন্য ওভারটাইমের বিধান করা। অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কর্মঘণ্টা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (মধ্যাহ্ন বিরতিসহ) নির্ধারণ করা। ওয়েম্যান থেকে যেকোনো পদোন্নতির ক্ষেত্রে গ্রেড পরিবর্তন নিশ্চিত করা; প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার সন্তানদের যোগ্যতা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিও উত্থাপিত হয়েছে।
রেলওয়ের যুগ্ম-মহাপরিচালক (প্রকৌশল) মো. আসাদুল হকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন সভায় বিদ্যমান বিধিবিধান, রেলওয়ের অপারেশনাল প্রয়োজন এবং কর্মচারীদের ১২ দফা দাবিনামা পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৮৯০ সালের আইনে বর্তমানে কোনো কর্মচারীকে ‘কন্টিনিউয়াস’ শ্রেণি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা নেই, যা ভারতীয় রেলওয়েতে রয়েছে। এ ছাড়া ওই আইনে রেল কর্মচারীদের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৮৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজের কথার উল্লেখ রয়েছে।
এরপর রেলওয়ের কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছে। এগুলো হচ্ছে- ১. প্রকৌশল বিভাগের সব কর্মচারীদের শ্রমঘণ্টা দৈনিক ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা করা। এর জন্য ‘দ্য রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৮৯০’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন করা। ২. গেজেটেড ও সরকারি ছুটিতে কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া। জরুরি প্রয়োজনে কাজ করতে হলে ওভারটাইম সুবিধা নিশ্চিত করা। বিষয়টি রেলওয়ে আইনে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। ৩. রেলওয়ে ট্র্যাক মেরামত ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ। এ সময়সূচিকে (নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতিসহ) অধিকতর উপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করে কমিটি।
কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমঘণ্টা শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার। বর্তমানে রেলওয়ের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা পরিবারসহ উৎসব উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা হ্রাস ও উদাসীনতা সৃষ্টি করছে। তাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার পরিবর্তে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টার সময়সূচিকে যুক্তিযুক্ত উল্লেখ করে বলা হয়, সকালে তাপমাত্রা কম থাকায় কর্মক্ষমতা বেশি থাকে এবং রেল চলাচল কম থাকায় ট্র্যাক ব্লকের কাজ সহজ হয়। অন্যদিকে দুপুরের তীব্র গরমে কাজ করলে কর্মীদের ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।