
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছেন, আর কত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গণহত্যার শিকার ও সব শহীদের একটি ‘নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য’ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।
মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে বিতর্ক নতুন করে উঠতে দেখা গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার মানুষের পূর্ণাঙ্গ তালিকার করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বর্তমানে ৬ হাজার ৪৮০ জন।
এই তালিকায় গেজেটভুক্ত শহীদ বেসামরিক আছেন ৩ হাজার ৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনীর ১ হাজার ৫৪১ জন, বিজিবি সদস্য ৮১৭ জন, পুলিশ সদস্য ৪২৩ জন এবং আনসার সদস্য একজন।
আহমদ আযম খান বলেন, শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হলে তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিএনপির সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মধ্যে ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের নাম।
