বুধবার ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

পশু পরিবহন ও কোরবানিতে মানতে হবে আইন, নয়তো শাস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পশু পরিবহন ও কোরবানিতে মানতে হবে আইন, নয়তো শাস্তি

পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন। এর মধ্যদিয়ে আল্লাহর প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি মুসলমানদের ত্যাগেরও প্রকাশ ঘটে। তবে কোরবানি এবং হাটে পশু নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। পাশাপাশি আইন অমান্য করলে শাস্তিরও কথা বলা আছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি। আর চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজারের মতো। সে হিসাবে এবার ২২ লাখ ২৭ হাজার গবাদিপশু চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে।

এ অবস্থায় ঈদকে সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকের গাদাগাদি এড়ানো এবং পশুর ওপর নিষ্ঠুরতা বন্ধে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১’ এবং ‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’-এ স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কঠোর বিধি

পশু কোরবানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু মানবিক ও স্বাস্থ্যকর নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে। বিধিমালার ৩ নম্বরে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা যাবে না। জবাই করার আগে পশুকে অন্তত ৬ ঘণ্টা পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। যদি কোনো পশু উত্তেজিত হয়ে পড়ে, তাকে শান্ত না করে জবাই করা যাবে না।

এছাড়া জবাই করার পর পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনোভাবেই চামড়া ছাড়ানো বা অঙ্গহানি করা যাবে না। এছাড়া জবাই করার ২৪ ঘণ্টা আগে একজন প্রাণিচিকিৎসক দিয়ে পশুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।

যেভাবে করতে হবে পশু পরিবহন

কোরবানির পাশাপাশি গাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে পশুকে হাটে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আইনে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, একটি ট্রাকে যে কয়টি পশু ধরার কথা, সেখানে ঠাসাঠাসি করে বাড়তি পশু তোলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিধিমালা অনুযায়ী, ট্রাকে ওঠানোর আগে পশুকে অবশ্যই পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিতে হবে। প্রতিটি পশুর দেহের চওড়ার তুলনায় উভয় পাশে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার এবং মাথা ও লেজের গোড়া থেকে অন্তত ৩০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে তারা সহজে শ্বাস নিতে পারে।

টানা ১০০ কিলোমিটার বা ৩ ঘণ্টার বেশি যাতায়াতের পথ হলে বিরতি করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া পশুবাহী যানবাহনের চালকের কাছে একটি তথ্য কার্ড থাকতে হবে, যেখানে মালিকের নাম-ঠিকানা ছাড়াও পশুর সংখ্যা এবং গন্তব্য লেখা থাকবে।

পশুর কষ্ট লাঘবে পরিবহনের জন্য আরও কিছু নিয়ম রয়েছে। যেমন– ট্রাকে ওঠানো বা নামানোর সময় অবশ্যই র‍্যাম্প বা ঢালু পাটাতন ব্যবহার করতে হবে। পশুকে লাফ দিতে বাধ্য করা বা টেনেহিঁচড়ে নামানো যাবে না। পশুবাহী ট্রাকের মেঝে হতে হবে সমতল ও অমসৃণ, যাতে পিছলে না যায়। মেঝেতে বড় কোনো ছিদ্র থাকা যাবে না। এছাড়া একই ট্রাকে ভিন্ন প্রজাতির পশু একসঙ্গে পরিবহন নিষিদ্ধ।

নিয়ম না মানলে যেসব শাস্তি

প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী, পশুকে অমানবিক অবস্থায় রাখা ‘অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য। আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে অনধিক ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তির মাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়