
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিশ্বকাপের প্রত্যেক আসরে ফেভারিট দল হিসেবে খেলতে নামে ব্রাজিল। কিন্তু ২৪ বছর হতে চলেছে তাদের ব্যর্থ হেক্সা মিশনের। ২০০২ সালে শেষ ট্রফি জেতার পর তারা সর্বোচ্চ সেমিফাইনাল খেলেছে একবার, ২০১৪ বিশ্বকাপে। আগামী বিশ্বকাপেও তাদের নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। স্বাভাবিকভাবে নানা সমীকরণ, তর্ক-বিতর্ক আর ভবিষ্যদ্বাণীও করা হচ্ছে সেলেসাওদের নিয়ে। তবে সম্প্রতি এক জার্মান অর্থনীতিবিদের ভবিষ্যদ্বাণী ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে।
জার্মান বিনিয়োগ বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ইওয়াখিম ক্লেমেন্টের গাণিতিক মডেল ও বিশেষ অ্যালগরিদম দাবি করছে—পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবার গ্রুপ পর্ব পার করলেও নকআউট পর্বের শুরুতেই অর্থাৎ রাউন্ড ৩২ থেকেই বিদায় নেবে! শুধু তাই নয়, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘চোকার্স’ খ্যাত নেদারল্যান্ডস নাকি এবার ঘরে তুলবে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি!
ক্লেমেন্টের এই ভবিষ্যদ্বাণী কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এর আগে টানা তিনটি বিশ্বকাপের একেবারে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে তিনি নিখুঁতভাবে বলেছিলেন জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হবে। ২০১৮ সালে তার মডেলে উঠে আসে ফ্রান্সের নাম। ২০২২ সালে তিনি মেলান আর্জেন্টিনার জয়ের সমীকরণ।
টানা ৩ বার শতভাগ সফলতার পর এবার ২০২৬ সালের জন্য তার অ্যালগরিদম বেছে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস দলকে। তার মডেল অনুযায়ী, এবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সেখানে পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে ডাচরা।
খেলার মাঠে বল গড়ানোর আগেই কীভাবে একজন অর্থনীতিবিদ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করে ফেলেন? ক্লেমেন্ট মূলত তার এই বিশেষ ইকোনোমেট্রিক মডেলে মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা, আবহাওয়া, ফিফা র্যাংকিং ও স্বাগতিক দেশের সুবিধার মতো ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক ব্যবহার করেন। এখানে দেখা হয় একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন, যা ফুটবল অবকাঠামো ও একাডেমিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে। ফুটবল সংস্কৃতি আছে এমন দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, সেখান থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করার সম্ভাবনা তত বাড়ে। আবহাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা হয়, কোনো দেশের গড় তাপমাত্রার কারণে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম কি না, যা ফুটবলার তৈরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দলের বর্তমান ফর্ম এবং শক্তি পরিমাপের জন্য ফিফা র্যাংকিং বিবেচনা করা হয়। এছাড়া স্বাগতিক দেশ ঘরের মাঠে দর্শকদের যে বাড়তি সমর্থন পায়, তার হিসাবও আনা হয়েছে এই মডেল তৈরি করতে।
ক্লেমেন্টের এই সিমুলেশন অনুযায়ী, ব্রাজিলের জন্য এবারের বিশ্বকাপ মোটেও সুখকর হবে না। রাউন্ড ৩২-এর নকআউট পর্বের কঠিন সমীকরণে পড়ে শুরুতেই ছিটকে যাবে সেলেসাওরা। তার সমীকরণে নেদারল্যান্ডসের ফাইনালের পথটাও সহজ হবে না। ডাচদের চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নকআউট পর্বে মরক্কো, কানাডা ও কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারাতে হবে। এরপর সেমিফাইনালে স্পেনের বাধা টপকে তবেই ফাইনালে পৌঁছাবে তারা।
ব্রাজিল ভক্তদের অবশ্য এখনই হতাশ হতে বলছেন না ক্লেমেন্ট। তিনি নিজেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যের ছোঁয়াও বড় একটা বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমার এই গাণিতিক মডেলে প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% নির্ভর করে স্রেফ ভাগ্যের ওপর। দুই দলের শক্তি যখন কাছাকাছি হয়, তখন সেদিনের ভাগ্যই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। পরপর তিনবার আমার মডেল মিলে গেছে দেখে আমার কাছে কোনো জাদুকরী ক্রিস্টাল বল আছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’
এখন দেখার অপেক্ষা, ক্লেমেন্টের এই অ্যালগরিদম কি ‘চারে চার’ করে ফুটবল জগতে তার আধিপত্য ধরে রাখবে, নাকি মাঠের লড়াইয়ে সব সমীকরণ ওলটপালট করে হেক্সা মিশনের খোঁজে থাকা ব্রাজিল কিংবা অন্য কোনো পরাশক্তি নিজেদের জাত চেনাবে!
