
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “এটি খুব দ্রুত খুলে যাবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় এই নৌপথে স্থিতিশীলতা ফিরুক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল থাকুক। তার মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে চলমান উত্তেজনা থেকে আলাদা করে দেখছেন। তার ভাষায়, বিভিন্ন সংকটকে আলাদা ট্র্যাকে রেখে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ হবে না।
একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, যাতে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এটি চাই।” তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ইউরেনিয়াম সংগ্রহ বা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরাই গিয়ে এটি নিয়ে আসব,”—যা বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
