
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কোনো ছিদ্রপথে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো ছিদ্রপথে যদি আবার ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে, তবে আমাদের যেমন বেকায়দায় ফেলবে, আপনাদেরও কেউ রক্ষা পাবেন না।
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব তো যাবেই, গণতন্ত্র চলে যাবে গোরস্থানে। এরপর কী ভয়ংকর পরিণতি হবে, তা আপনারা টের পাবেন। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়া দরকার।
বিএনপি কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরির নয় এমন মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিএনপি সবসময়ই কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সবসময়ই কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার নয়। আগামীতে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে কোনো মানুষ বেকার থাকবে না।
নানা উদ্যোগে, নানা সেক্টরে কর্মের প্রসার ঘটবে।
জিয়াউর রহমান বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পোশাক শিল্পের নায়ক এমন মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটিরও বেশি লোক কাজ করছেন। এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল নায়ক ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি দেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন, যেখানে ৫০ ভাগের বেশি নারী কাজ করছেন। নারীদের ক্ষমতায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত এই তৈরি পোশাক শিল্প শহীদ জিয়ারই অবদান।
তিনি আরও বলেন, শুকনো মৌসুমে পানির অভাব দূর করতে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের পানি আগ্রাসন মোকাবিলায় শহীদ জিয়া দেশজুড়ে ১ হাজার ৬০০ মাইল খাল খনন করেছিলেন। এর মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি ফাঁকা আওয়াজ বা বড় বড় কথা বলেননি, যা পেরেছেন তা করে দেখিয়েছেন।
তারেক রহমানের মানবিক ও পুনর্বাসনমুখী রাজনীতির কথা উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হকারদের কথা ভাবেনি। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার বলেছে, হকারদের সরাতে হলে আগে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ তারাও দেশের নাগরিক। তারা বেকার থাকলে তাদের পরিবার খাবে কী।
পানির নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তারেক রহমানের ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই ব্যারেজ হলে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নদীগুলো আবার জেগে উঠবে এবং মৎস্য ও কৃষি চাষের বিপ্লব ঘটবে। এটি একটি দেশপ্রেমিক প্রকল্প।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রক্তের মধ্যেই রয়েছে গণতন্ত্র হত্যা ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। তারা ক্ষমতা গ্রাস করে প্রথম যে কাজটি করে, তা হলো নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন। গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা, তার সঙ্গপাঙ্গ ও আত্মীয়-স্বজনরা দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।
দেশে ‘মব কালচার’ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, নাগরিক স্বাধীনতার নামে সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে মব কালচার তৈরি করা হচ্ছে। গত মে মাসেই এই মবের কারণে দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন মানুষ মারা গেছে। পাড়ার বখাটে ছেলেদের মতো কিছু দলের গডফাদাররা এই মব কালচার ও অপসংস্কৃতিকে ধারণ করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রিজভী বলেন, যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, সরকারিভাবে তাদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার কথা। যদি কোনো কারণে তা না হয়, তবে বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়াবে। শহীদ শ্রমিকদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা করতে পারে এবং কোনো পরিবার যেন না খেয়ে থাকে, তার দায়িত্ব বিএনপি নেবে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা, ভ্যান ও অটো চালক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ।
