
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মাত্র এক মাস আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এর পর গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আজ রাতেই ইরানের ওপর আবার কঠোর আঘাত হানা হবে।’ পাল্টা জবাবে ইরানও স্পষ্ট জানায়, ‘আঘাত করলে, পাল্টা আঘাত পেতে হবে।’
দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে একের পর এক বিস্ফোরণ, সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে, বিশেষ করে হুরমুজ প্রণালীর বন্দর শহর সিরিক ও বান্দার আব্বাসে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণ হয়েছে এবং সেখানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ ইরানের জাস্ক বন্দর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধপূর্ণ ‘আবু মুসা’ দ্বীপেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
এ হামলায় চাবাহার শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে এবং বুশেহরে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি ব্যারাকে ভয়াবহ আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
ওরা নিকৃষ্ট, চুক্তি শেষ: ট্রাম্প
হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ জানান, ‘ইরানের জাহাজ বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে।’
বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গত ১৭ জুন ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন শেষ।’
তিনি ইরানকে ‘নিকৃষ্ট’ ও ‘অসুস্থ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি ওদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।’ তবে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পর ইরান “খুবই মরিয়া হয়ে” চুক্তি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনকে ফোন করেছিল। কিন্তু তারা চুক্তি সম্মান করার যোগ্য কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেন।
আঘাত করলে, পাল্টা আঘাত পাবে: ইরান
মার্কিন হামলার মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ তেহরান। ইরানের সংসদীয় স্পিকার ও প্রধান পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘তোমরা আঘাত করলে, তোমরাও আঘাত পাবে। হুরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের ব্যবস্থাপনায় খুলবে, মার্কিন হুমকিতে নয়।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা অভদ্রতার জবাব অভদ্রতা দিয়ে দিই না, বরং কাজের মাধ্যমে দিই নির্ভয়ে এবং অসীম সাহসিকতার সঙ্গে।’
