মঙ্গলবার ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
বরিশাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী, অংশ নিয়েছেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন /পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেভাবে বদলে দেবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বৃষ্টি থামার নাম নেই, পথে পথে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে: তারেক রহমান বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন কক্সবাজারে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবে দুই বোনের মৃত্যু দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী
Advertise with us

বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

মার্কিন সামরিক বাহিনী ও ইরান ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এই ঘটনা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের মাহশাহর এলাকায় একটি সেচ পাম্প স্টেশনে মার্কিন হামলা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। তেহরান জানিয়েছে, এই সাম্প্রতিক হামলাগুলো গত কয়েক মাসের সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, পারস্য উপসাগরের সংকীর্ণ প্রবেশপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছিল। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলা চালায়। এর পরেই নতুন মার্কিন হামলা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, এক সময় বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির অধীনে আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের দরকষাকষির মূল হাতিয়ার হলো এই প্রণালি। তবে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের বিপরীতমুখী দাবি করছে।

গতকাল এই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানি হামলার মুখে পড়েছে। তেহরান এই সাম্প্রতিক হামলার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী রোববার ইরানের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু হামলা চালানো শুরু করে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা গুড়িয়ে দিতে তারা হামলা চালিয়েছে। তারা একাধিক স্থানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে।

এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ছোট ছোট স্পিডবোট। সেন্টকম জানায়, এই অভিযানে তারা কিছু সামরিক যান ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইটার এয়ারক্রাফট ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া এই প্রথমবারের মতো ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক এরিয়াল ড্রোন এবং ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক সি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এর আগে জানিয়েছিল—তারা প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই হামলা গত সপ্তাহের আগের দুই দফার হামলার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভারী ছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে, এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমরা তাদের ওপর নরকীয় বোমা হামলা চালিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানি বাহিনী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং ওমানে অবস্থিত ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার জানিয়েছে—এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ড্রোন হামলা এখনও চলছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে আমেরিকার একটি ড্রোন বহর ধ্বংস করে দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স একটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এছাড়া একটি পি-৮ যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারেও আঘাত হেনেছে। ইরানি গণমাধ্যম আরও কিছু দাবি করেছে। তেহরান কুয়েতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল তাদের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বাঙ্কার ও সহায়তাকারী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো। ইরানের আইআরজিসি এর আগেই কুয়েতের আলি সালেম এবং আহমাদ আল-জাবের ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন করে চালানো এই মার্কিন হামলা একটি বড় ক্ষতি করেছে। এটি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গত কয়েক মাসের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন শাসনব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তারা ইরান সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়