
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আজ আর নেই
কোথায় হারিয়ে গেল সোনালী বিকেলগুলো সেই, আজ আর নেই।
নিখিলেশ প্যারিসে মইদুল ঢাকাতে নেই তারা আজ কোন খবরে
গ্র্যান্ডের গীটারিস্ট গোয়ানিজ ডিসুদা ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে
কাকে যেন ভালোবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে পাগলা গারদে আছে রমা রায়
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যান্সারে জীবন করেনি তাকে ক্ষমা হায়।
‘কফি হাউজ’ ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত বাংলা সঙ্গীত। স্মৃতিচারণা মূলক এই গানটি ১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা ও সুপর্ণকান্তি ঘোষের সুরে এই গানে কণ্ঠ দেন মান্না দে। এমন বহু কালজয়ী গানের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরে জন্ম নেয়া এই গীতিকবির পৈতৃক ভিটায় কালের প্রবাহে ধ্বংস হয়েছে তার সবটুকু স্মৃতিচিহ্ন। এই গীতিকবির স্মৃতি ধরে রাখতে সংগ্রহশালা গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের।
ছোট থেকে বড়- বন্ধুবান্ধব গ্রুপের এমন কোন আড্ডা নেই- যেখানে এই গান সমবেত কণ্ঠে শোনা যায় না.। সেই সুরে ফেলে আসা সোনালি দিনের স্মৃতি গহ্বরে ডুবে অমল-রমা রায়, ডি সুজাদের খুঁজে বেড়ায় সকলেই।
মুখে মুখে ফেরা এই গানের মতো অসংখ্য অমর সঙ্গীতের গীতিকার ও সুরকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। যার জন্ম বাংলাদেশের পাবনার গোপালনগরে। প্রায় চার দশক আগে এদিন ৬১ বছর বয়সে চলে যান পৃথিবী ছেড়ে।
বাঙালি হৃদয়ে চিরকালীন গেঁথে যাওয়া গৌরিপ্রসন্নের ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানটি বিবিসি জরিপেও ঠাঁই পেয়েছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায়।
আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অধিকাংশ গানই তার লেখা। বাণী আর ছন্দের অভাবনীয় মেলবন্ধনে, কখনও উত্তম-সুচিত্রার ঠোঁটে, কখনও মান্না, হেমন্ত, শ্যামল মিত্র, শচীন দেব বর্মন কিংবা আশা ভোঁসলের কণ্ঠেও মাধুর্য ছড়িয়েছে গৌরি প্রসন্নের কথা আর সুর।
দেশভাগের পর পাবনার ফরিদপুর উপজেলা ছেড়ে সপরিবারে চলে যান ওপার বাংলায়। কিন্তু ছিন্ন করতে পারেননি নাড়ির টান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অনেক গানে প্রেরণা পেয়েছেন মুক্তিকামী বাঙালি। যে কারণে স্বাধীনতার পর একবার জন্মভূমিতে এসেছিলেন বঙ্গব্ন্ধুর ডাকে।
গৌরী প্রসন্নের পৈতৃক বাড়িটি এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্মৃতিচিহ্ন বলতে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি তালগাছ আর ঘাট বাঁধানো পুকুর। এলাকার অনেকেই জানেন না, এটাই তার জন্মভিটা।
স্থানীয়রা জানান, এই প্রজন্ম গৌরী প্রসন্ন মজুমদারকে অনেকেই চেনে না। আমরা চাই পরবর্তী প্রজন্ম যেন তার সম্পর্কে জানতে পারে।
তবে অমর এই শিল্পীর পৈতৃক বাড়ির স্মৃতি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
পাবনা ফরিদপুরের নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, ‘ফরিদপুর উপজেলার পক্ষ থেকে আমরা উনার স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখার উদ্যোগ নিচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা আছে উনার যে বাড়ি আছে সেখানে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কি করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার।’
জন্মভিটায় গৌরিপ্রসন্নের স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তুলে, এই মহান শিল্পীকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
