
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়ির মালিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ টুকরো করে পলিথিনে ভরে ৯টি প্যাকেট করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখেন অভিযুক্ত।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুরে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন ফরিদা ইয়াসমিন। স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে একাই বসবাস করতেন ফরিদা। এছাড়া বাড়ির অন্য একটি ঘর লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে বাবার বাড়িতে আসেন ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার। পরে বাড়িতে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনের কয়েকটি প্যাকেটে তার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার সঙ্গে রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের তিন যুবক ও লাইলীর স্বামী আবুল কালাম আজাদ জড়িত থাকার কথাও জানান।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ফরিদার টুকরো করা মরদেহের প্যাকেট উদ্ধার ও লাইলী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। লাইলী আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের টুকরো করা মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পা এবং মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটককৃত লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
