
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সময় আজ (বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টায় (নিউ ইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা) বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। সরকারিনীতি পড়ুন
গতকাল (বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায়) ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের ধারাবাহিকতায় এবার প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও অনুভূতি ধারণ করে বাংলা ভাষায় জাতির কথা তুলে ধরে নতুন ইতিহাস গড়বেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করা হয়।
এ সময় মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। দেশের মানুষের সার্বিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, গভীর আবেগ ও অনুভূতিকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলা ভাষায় জাতির বার্তা তুলে ধরবেন।’
সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মযজ্ঞ তুলে ধরে তিনি জানান, দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ‘গেটস ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিনিধিদলের সাথে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করা এই সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনায় প্রধানত স্বাস্থ্য ও কৃষি— এ দু’টি খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ‘স্মার্ট ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে কীভাবে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে ইতিবাচক কথা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে দেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং সরকারের ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই নিয়োগের ৮০ শতাংশই হবেন নারী কর্মী। স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে গেটস ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা এবং যৌথ অংশীদারিত্বের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই তাদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবে।’ সরকারিনীতি পড়ুন
জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ‘জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, বহুপাক্ষিক উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে গাম্বিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত অংশ নেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ ওআইসি এবং জাতিসংঘের শীর্ষ সংস্থাগুলোর (ডব্লিউএফপি, ইউএনএফপিএ, ওএইচসিএইচআর, আইওএম) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে ৫ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘অতীতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে সফল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এবারও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করা, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মানবিক সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।’
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিধি বাড়াতে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ সরকারিনীতি পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে বর্তমানে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় তাদের ব্যবস্থাপনার সার্বিক চাপ বাংলাদেশের ওপর বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আরও সুনির্দিষ্ট ও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে। আলোচনার টেবিলে বিশ্ব নেতারা স্বীকার করেছেন, একদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং অন্যদিকে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখাচ্ছে তাতে সহায়তা অব্যাহত রাখতে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’
এছাড়া নির্বাচিত সরকারের এই দায়িত্বশীল মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।
