শনিবার ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
খুলনায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলা একা চলাচল না করার নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আটক নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে আকিজ ভেঞ্চার আমদানি নির্ভর জ্বালানি উৎপাদন থেকে বের হতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে মিলছে না গ্যাস টেকনাফে পিকআপ ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ, আটক ৩ বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত, ভারতীয় নাগরিককে ধরে আনল গ্রামবাসী তরুণদের যুক্ত করতে পারলে দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে: রিজভী ‘হজ মিশন ভিসা’ ইস্যুর লক্ষ্যে জরুরি নির্দেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
Advertise with us

ভারতের টানা প্রচেষ্টার পরও স্থগিত হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভারতের টানা প্রচেষ্টার পরও স্থগিত হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

হঠাৎ করেই যেন বদলে গেল দৃশ্যপট। ভারতের টানা প্রচেষ্টা এবং বহু আলোচনার পরও স্থগিত হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর। আজকের আমরা বিশ্লেষণ করব—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটছে, ঢাকার এই কঠোর অবস্থান আসলে কিসের বার্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি কোন নতুন মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে।

দিল্লির প্রস্তাবে ঢাকার শর্ত

দিল্লি চেয়েছিল সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের আগেই, অর্থাৎ আগস্টের শেষেই একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের আয়োজন করতে। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী স্বয়ং মোদীর সাথে জরুরি বৈঠক করে এসে নতুন তারিখের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত সফরের আগে তৈরি করতে হবে সহায়ক পরিবেশ। আর এই সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য দিল্লিকে দুটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে ঢাকা।

প্রথম শর্ত হলো, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের দ্রুত ফেরত পাঠানো। এবং দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, ঢাকা এখন দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় আছে। অবশ্য শনিবার নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

কেন এই ক্ষোভ ও কঠোর শর্ত?

প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন হুট করে ঢাকার এই কঠোর অবস্থান? আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে প্রধানত কাজ করছে তিনটি প্রধান।

১. দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা: ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর গত ৫ই আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও প্রেস ব্রিফিংয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ হয় ঢাকা। বাংলাদেশ একে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।

২. ‘হাসিনা কার্ড’ নিয়ে অবিশ্বাস: সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একই সাথে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা এবং বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা—এই দুই জিনিস একসাথে চলতে পারে না।

৩. সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস বা রিসেট: বাংলাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে—কূটনীতিতে ‘সার্বভৌম সমতা’ এবং ‘জাতীয় মর্যাদা’ রক্ষা ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না। ঢাকা চায় খেলার আগে খেলার নিয়ম ঠিক করতে।

বাংলাদেশের কৌশলগত চাল?

বাংলাদেশের এই শর্ত দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? বিশ্লেষকদের মধ্যে এটি নিয়ে দুটি ভিন্ন মতামত রয়েছে। একপক্ষ বলছেন, ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া বহু নেতা আছেন, যাদের কখনোই ফেরত পাঠানো হয়নি, যেমন তিব্বতের দালাই লামা। তাই ভারত হুট করে হাসিনাকে ফেরত দেবে না—এটা জানা সত্ত্বেও এ ধরনের শর্ত দিয়ে বৈঠক আটকে দেওয়া সম্পর্কে গভীর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এতে সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন বা জ্বালানি চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো ঝুলে যেতে পারে।

তবে সাবেক কূটনীতিকদের অন্য পক্ষ বলছেন, এটা কোনো ঝোঁকের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পলিসির অংশ। এতদিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে দিল্লির যে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে পুরো সম্পর্কের ভিত্তিটিকেই এখন নতুন করে রিসেট করতে চাইছে বাংলাদেশ।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?

তাহলে কি দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে একদম অচলাবস্থা তৈরি হয়ে গেল? কূটনীতিকরা মনে করছেন, সম্পর্ক একেবারে আটকে যাওয়ার পথ এখনও তৈরি হয়নি। কারণ বাংলাদেশ এখন আর একক নির্ভরতার রাজনীতিতে নেই। একদিকে পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য ও কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি, অন্যদিকে চীনের সাথে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে ঢাকা নিজের ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির জায়গা অনেক শক্তিশালী করেছে। দিল্লিকেও এখন বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশের পুরোনো রাজনীতি আর নেই; তাদেরও সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা মেনে নিয়েই টেবিলে বসতে হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এবং ঐতিহাসিক ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে আলোচনা কোনো না কোনো সময় ফের শুরু করতেই হবে। তবে শীর্ষ বৈঠকের আগে ঢাকার দেওয়া এই শর্ত এবং শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে—দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়