বৃহস্পতিবার ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে: স্পিকার মিরসরাইয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৩, ৮০০ ঘনফুট বালু জব্দ শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্যাম্পে এসআইয়ের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে রাজশাহীতে হিমশিম খাচ্ছেন গ্রাহকরা পঞ্চম দিনের মতো সাভারে সড়ক অবরোধ করছেন শ্রমিকরা রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ আরোহী নিহত যশোরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
Advertise with us

দলের নতুন নাম ও প্রতীক: সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দলের নতুন নাম ও প্রতীক: সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়

বিভক্তির জেরে পশ্চিমবঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার দলের নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন এই নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম দেয়া হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক চিহ্ন ‘খাম’। এদিকে, জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।

কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমুল কংগ্রেস নামে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই থেকে দলটির প্রতীক জোড়াফুল। এরপর ২৮ বছর ধরে দলের নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করেই একের পর এক নির্বাচনে লড়াই করে তৃণমূল শিবির।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাঙন ধরে দলে। দলের অনেক প্রবীণ নেতাকে সাথে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের নতুন শিবির।

রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন সামনে রেখে জোড়াফুল প্রতীক পাবে কোন শিবির, তা নিয়ে উত্তেজনা চলছিল মমতা ও ঋতব্রতপন্থী দুই শিবিরে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন ‘তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নাম ও দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ফ্রিজ করে।

এরই ধারাবাহিকতায়, শুক্রবার দলের পুরোনো নামের সাথে মিল রেখে তিনটি করে বিকল্প নাম এবং তিনটি প্রতীক প্রস্তাব করা হয়। সেখান থেকেই আলাদা নাম ও প্রতীক পেলো দুই দল।

মমতার নতুন দলের নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করতে এ পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের।

পশ্চিমবঙ্গের মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের দেশে যা কিছু হচ্ছে, তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, বেআইনি, অ-গণতান্ত্রিক এবং একটি রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করতে পুরোপুরি রাজনৈতিক পাক্ষপাতিত্বের একটি নমুনা।’

বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম দেয়া হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, দলীয় প্রতীক চিহ্ন ‘খাম’। জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে পারায় সন্তোষ জানান ঋতব্রত।

পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অন্য অংশ যে নাম পেয়েছে, সেখানে ব্যক্তির নাম আছে। আমাদের কিন্তু ব্যক্তি নইব, নইব..চ। আমরা কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনাই করিনি। এটা একটা কালেক্টিভ। আমাদের প্রথম আলোচনায় প্রথম প্রায়োরিটি ছিলো ‘ন্যাশনাল তৃণমূল কংগ্রেস; তারপর ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশন জানিয়েছেন, কেনো ওই দুটো সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে নির্বাচন কমিশন সিলমোহর দিয়েছে।’

মমতার দলের নাম ও চিহ্ন হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপিনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওনার দলকে উনি একত্রিত রাখতে পারেননি, দুই ভাগ- তিন ভাগ- চার ভাগ হয়েছে। এটার দায় তো ওনার। এখানে আমাদের বিজেপির কোনো দায় নেই।’

আগামী ৬ অক্টোবর দুই আসনে উপ-নির্বাচনে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করবে দুই দলের প্রার্থীরা। যদিও নন্দীগ্রামে নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে সেখানকার কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।

দলপ্রধান জানান, বিজেপিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করতেই এ সিদ্ধান্ত। নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে রেজিনগর নিয়েও।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়