বুধবার ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ সত্য ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ঈশ্বরদীতে পূজা দেখে ফেরার পথে নারীসহ ৬ জনের টাকা-স্বর্ণালংকার আজ বিজয়া দশমী, বিদায়ের সুর বাজছে শারদীয় দুর্গোৎসব তিন বিভাগের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জেলায় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক পদে ১৩ কর্মকর্তার বদলি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধন হতে হবে: স্পিকার নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, তদন্ত কমিটি গঠন প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন করা ঠিক নয়,  তবে কাজকে নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
Advertise with us

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার,নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার,নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

 

নেপালের প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার-হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে একটি চন্দিকা শ্রেষ্ঠার। ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যায় তার বাড়ি। এরপর টানা আট দিন ধরে ৬৪ বছরের চন্দিকা খুঁজে পরিবার। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ধরে নেন চন্দিকা আর বেঁচে নেই। এরপর পরিবার কুশ ঘাস দিয়ে তার প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে এবং মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।

কাঠমন্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পরিবারের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে ১১তম দিনে বদলে যায় সবকিছু। চন্দিকাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে, একই বাড়িতে থাকা চন্দিকার পরিবারের অন্য চার সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের বেত্রাবতী বাজারে আনন্দ শ্রেষ্ঠার বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর বাসিন্দা চন্দিকা বন্যার সময় স্বামীর সঙ্গে বাড়িতেই ছিলেন। প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি ভেসে যায়। পরে বাড়িটি ত্রিশূলী নদীর তীরে কোথাও আটকে যায় বলে জানান তার আত্মীয় রমেশ মান শ্রেষ্ঠা।

রমেশ বলেন, ‘আমরা আট দিন ধরে খুঁজেছি। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

চন্দিকার জামাইও দুই-তিন দিন বেত্রাবতী ও ত্রিশূলী নদীর তীর ধরে তাকে খুঁজেছিলেন। কিন্তু পরে ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আশপাশে মরদেহ পচতে শুরু করায় দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে মাস্ক ছাড়া সেখানে যাওয়া সম্ভব ছিল না। গভীর কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে উদ্ধারকারীরাও কিছু এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি।

অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার আলোচনা করে চন্দিকার শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নেয়। রমেশ বলেন, ‘আমরা কুশের মরদেহ তৈরি করে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা করার সিদ্ধান্ত নিই।’
উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে চন্দিকাকে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা পরিবারকে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছেন। ফলে রমেশ এখনো সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি; হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাঁকে দেখার চেষ্টা করছেন।

চন্দিকার নাতিও হাসপাতালে রয়েছে। রমেশ জানান, নানিকে দেখে ছেলেটি অনবরত কাঁদছে এবং ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করছে না। তার ভাষায়, ‘মনে হচ্ছে, সত্যিই এই পৃথিবীতে ঈশ্বর আছেন।’

নেপালের ভয়াবহ এই বন্যায় ১,৩৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ ৫০০০ মানুষ।

সূত্র: দ্য কাঠমন্ডুপোস্ট/ দ্য স্টেটসম্যান

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়