বৃহস্পতিবার ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সরকার নিরপেক্ষ ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস তৈরির চেষ্টা করছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ১৫ বছরের চুক্তি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের ৩ বছরের কারাদণ্ড শিক্ষকদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে সরকার মেনে নেবে: রিজভী দুর্নীতি করে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার ঠাকুরগাঁও ১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর ওসিরে মৃত্যু সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির জন্য টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়জন: এ্যানি সব সংকট ছাপিয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে বাংলাদেশ
Advertise with us

দেশের ৬২ লাখ প্রবীণ নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দেশের ৬২ লাখ প্রবীণ নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার

দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৬২ লাখ নারী-পুরুষকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও কিছু যোগ্য প্রবীণ ব্যক্তি বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তির আওতার বাইরে রয়েছেন। ভবিষ্যতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সব মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতা প্রতি বছরই ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একসময় ৬০ লাখ প্রবীণকে এ ভাতা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। চলতি বছর আরও ১ লাখ প্রবীণকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে মোট ৬২ লাখ প্রবীণ এ সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এখনো সব প্রবীণকে আমরা আওতার মধ্যে আনতে পারিনি। যাদের বয়স নারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর বা তার বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি, তারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য।’

সচিব বলেন, নির্ধারিত বয়সসীমা পূরণ করলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বয়স্ক ভাতার সুবিধা পান না। এক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার বিষয় রয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। ফলে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচির আওতায় নেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বয়স্ক ভাতার জন্য কিছু আবেদন রয়েছে, যেগুলো বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকার এ বিষয়ে সচেতন এবং ভবিষ্যতে বাজেটের সক্ষমতা বাড়লে পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই সমাজে একজন মানুষের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বয়স্ক ভাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের জন্য এই ভাতা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে কিছুটা সহায়তা করছে। পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখতেও এ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার মতে, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন প্রবীণ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আরো বাড়বে। ফলে প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ চলাচল ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

প্রবীণদের চলাচলের সুবিধার বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, দেশের রেল ও মেট্রোরেলসহ কিছু গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে।

গণপরিবহনে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভাড়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তিনি জানান, রেল ও মেট্রোরেলসহ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের জন্য কেবল আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সচিব বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের দেখাশোনার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই মূল্যবোধ ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবীণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং তারা বিভিন্নভাবে সমাজে অবদান রাখতে পারেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে একদিকে যেমন প্রবীণদের সক্রিয় জীবন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে নবীন প্রজন্মও তাদের কাছ থেকে উপকৃত হবে।

বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে— সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিক করা। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন, অন্যদিকে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতার আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীদের ভাতার পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক ভাতার আওতাও আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য সকল ব্যক্তিকে পর্যায়ক্রমে এ ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবীণ মানুষ আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, তবে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে শুধু ভাতা প্রদান নয়, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগসহ সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করা হবে সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 ১২৩
৪৫৭৮৯১০
১১১১৩৪১৫১৬১
৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৯৩০৩১

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়