
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনেরই বাড়ি জামালপুরে। সদরের রানাগাছা ইউনিয়নে পাঁচজন এবং শরীফপুর ইউনিয়নের দু’জনের। তাদের মৃত্যুতে মাতম চলছে পুরো জেলায়। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান স্বজনরা।
প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জামালপুরের দুই ইউনিয়নে। ময়মনসিংহের বাইপাসে বাস চাপায় অটোরিকশার নিহত সাত যাত্রীর সবাই জামালপুরের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রানাগাছা ইউনিয়নের পাঁচজন ও শরিফপুর ইউনিয়নের দু’জন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
নিহতদের মধ্যে দরিহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তার মা রাশিদা বেগম, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা মরজিনা ও শিশু সন্তান মিনান রয়েছেন। একই গ্রামের বীর গোবিন্দবাড়ির সুজন আলীও নিহত হয়েছেন।
আর শরিফপুর ইউনিয়নের বাদে চান্দী গ্রামের আকরাম আলী ও তার স্ত্রী মমতা বেগম মারা গেছেন।
স্বজনরা জানান, গাজীপুরে বসবাসরত মোফাজ্জল হোসেন তার মা, গর্ভবতী মেয়ে ও নাতিকে সঙ্গে করে বাড়ি থেকে রওনা হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিতে ময়মনসিংহ যাওয়ার পর বাসে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চারজন।
মোফাজ্জলের আত্মীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘একডা ছেলেও আমার নাই আর কিচ্ছুই নাই। আমার দুনিয়াতে কেউ নাই।’ মোফাজ্জলের বাবা বলেন, ‘আমি এই ড্রাইভারদের বিচার চাই। এই রাজপথগুলোর বিচার চাই, বাসগুলা বিচার চাই। ড্রাইভারের ফাঁসি চাই।’
এলাকাবাসীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘একই ফ্যামিলির চার সদস্য আজকে এই অ্যাক্সিডেন্টটা হইছে। এর সঠিক বিচার আমরা চাই।’
শুক্রবার দুপুরে জামালপুরগামী একটি বাস বাইপাস সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ময়মনসিংহের আকুয়া এলাকায়। দুর্ঘটনাস্থলেই নারী শিশুসহ সাতজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটকানো গেলেও পালিয়ে যায় হেলপার ও চালক।
এদিকে পালিয়ে যাওয়া বাসের সহকারী ও চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিহতদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানান এলাকাবাসী।
