নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি শনাক্তে পুরস্কার ঘোষণা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কার ঘোষণা করেন প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১২ মে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সঠিক তথ্যদাতাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। যদি কেউ সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনে থাকেন অথবা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে তাদের দ্রুত ০১৭১৪০১২৩১৫ অথবা ০১৭২৭২৬৫৯৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়ার তথ্য জানান প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।
ঘটনার পরপরই আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে’ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সিসি ফুটেজের মাধ্যমে আসামির চেহারা শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসামির নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে গ্রেপ্তার করার।’ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির তথ্য সহায়তা চেয়ে পুলিশও পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
১৬ মে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তা’য় বাংলাদেশ পুলিশ বলেছে—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে আক্রমণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কেউ যদি উক্ত ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানেন, তাহলে অনুগ্রহ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন।
তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে জানিয়ে বার্তায় পুলিশ জানায়, ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে পুরস্কৃত করা হবে।’ যোগাযোগের জন্য 01320-089305 নম্বরটিও পোস্টে দিয়ে রেখেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল
গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজেও এমন দৃশ্য ধরা পরে।
এ সময় ওই নারী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে কয়েকজন পথচারী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত করে—অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, তিনি বহিরাগত। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যা বলছে প্রশাসন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবদুর রব আজকের সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১২ মে রাতে সংঘটিত এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ঘটনার পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’
বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী স্থায়ী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রেজারার।