নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটের ইজারায় এবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি ও জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তারা দাবি করছেন, দেড় যুগের আওয়ামী শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে তারা দরপত্রেই অংশ নিতে পারেননি। এবার উত্তর সিটির দিয়াবাড়ি হাট ১৪ কোটি টাকায় ইজারা পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের শেখ ফরিদ। অন্যদিকে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল এলাকার হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন জামায়াত নেতা শামীম খান। তবে দুই সিটি প্রশাসক বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়; নিয়ম মেনে উন্মুক্ত বিডিংয়ের মাধ্যমেই ইজারা দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর সবচেয়ে বেশি দামের হাট হিসেবে এবার আলোচনায় এসেছে দিয়াবাড়ি পশুর হাট। ১৪ কোটি টাকায় পাঁচ দিনের জন্য ইজারা পাওয়া এই হাটে এরই মধ্যে পশু আসা শুরু হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্থায়ী একটি হাট এবং অস্থায়ী ১৪টি হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, বাকি চারটি প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী হাট রয়েছে, যার বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইজারাদারদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে তারা হাট পরিচালনার সুযোগ পাননি। তারা বলেন, ‘আমরা তো এলাকায় থাকতে পারতাম না, নিজের ঘরেও থাকতে পারতাম না। বিভিন্ন সময় জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এজন্য দরপত্রেও অংশ নিতে পারিনি। এবার আমরা চাই হাটকে পারিবারিক উৎসবের মতো করে পরিচালনা করতে। এখন আমরা সমন্বয় করে হাট পরিচালনা করছি।’
উত্তরের ১০টি হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে দিয়াবাড়ি পশুর হাটে। এর ইজারাদার মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গার হাট, যা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব আতাউর রহমান। তৃতীয় স্থানে তেজগাঁও হাটের ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।
ইজারাদাররা বলছেন, হাটে এবার নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, হাটে ব্যাংকিং সুবিধা, সিসিটিভি নজরদারি ও জেনারেটর ব্যবস্থা রয়েছে, ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোনো অসুবিধা হবে না।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির ১১টি হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প এলাকার হাটে, যার সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা শামীম খান। দ্বিতীয় স্থানে শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন হাটের ইজারাদার নাফিজ কবির, যিনি ধানমন্ডি থানার যুবদল কর্মী। তৃতীয় স্থানে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার হাটের ইজারাদার কাজী মাহবুব মওলা হিমেল, যিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শ্যামপুর থানা কমিটির সদস্য সচিব।
তবে দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা বলছেন, হাট ইজারায় কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা নেই। তাদের মতে, শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেয়া হয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, যারা শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ দর দিতে পেরেছে এবং কাগজপত্র সঠিক ছিল, তাদেরকেই ইজারা দেয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক বিষয় মুখ্য নয়।
আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, সবাই শিডিউল কিনতে পেরেছে। তিন ধাপে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা থাকে। কোনো ধরনের প্রভাব আমরা অনুভব করিনি।
এবার ঢাকায় মোট ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও উত্তর সিটির গাবতলী স্থায়ী হাট এবং দক্ষিণ সিটির সারুলিয়া স্থায়ী হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা চলবে।