বৃহস্পতিবার ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

বিস্ফোরণের আতঙ্ক, সরিয়ে নেওয়ার সময় রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২০ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিস্ফোরণের আতঙ্ক, সরিয়ে নেওয়ার সময় রোগীর মৃত্যু

রোগী ও স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় আতঙ্ক, ছোটাছুটি ও হুড়োহুড়ি। জীবন বাঁচাতে যে যেভাবে পারেন হাসপাতালের বাইরে বের হতে থাকেন। অনেকের ঘুম ভাঙে আতঙ্কে। এমন চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুমেক হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরাতন আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

এসময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরেকজন রোগী আগুন লাগার আগে ভোর ৫টার দিকে মারা গিয়েছিলেন।

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুজন নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন, হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ‘স্টোররুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। আইসিইউর রোগীদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা নার্সদের উদ্ধার করেন। অসুস্থ হয়ে পড়া দুই নার্সকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, ভোর ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরো ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।’

তিনি বলেন, ‘চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। প্রথমদিকে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, সেগুলো ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। বেলকনি থেকে ৪ থেকে ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।’

সরকার মাসুদ বলেন, ‘প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৫৫ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার বলেন, ‘পুরনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। সেখানে পুরনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেকজন রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যান।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আইসিইউর রোগীদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতালের সামনের সড়ক ও মাঠে রোগী-স্বজনদের জড়ো হতে দেখা যায়। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়