
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বহুল প্রতীক্ষিত ১০ শয্যার আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বিভাগের উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে, উদ্বোধনের পরপরই ২০২০ সালে ক্রয় করা ১০টি শয্যার মধ্যে ৯টি ভেন্টিলেটরই অকেজো থাকার বিষয়টি সামনে এলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আইসিইউ বিভাগের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে ডা. কে এম বাবর বলেন, “আজকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের যে আইসিইউ ওয়ার্ড উদ্বোধন করা হলো, এর ভেন্টিলেটারগুলো ২০২০ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে কোভিডের সময় আইসিইউর সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি বেড প্রস্তুত ছিল, ভেন্টিলেটর, মনিটরসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল, কিন্তু এখানে যে ভেন্টিলেটারগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো একেবারেই নিম্নমানের ও সস্তা। ফলে চালু করার আগেই সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চালু করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি ভেন্টিলেটর মেশিনের মধ্যে ৯টিই নষ্ট। এটি যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জেলা এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা। তাহলে ২০২০ সালে কেন এটি চালু হয়নি? এমন প্রশ্ন তোলেন এই রাজনৈতিক নেতা”
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সাবেক পিডি এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, ডা. অসিত মল্লিক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট
হাসপাতালটি লুটপাট করে খেয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের নাম বেরিয়ে আসবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমি গোপালগঞ্জবাসীকে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, গত ছয় বছর ধরে এখানে যন্ত্রপাতিগুলো কেন অকেজো হয়ে পড়ে ছিল? কেন আমরা এটি চালু করতে পারিনি? আমাদের সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাসও হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজ সারা বাংলাদেশের ১০টি জেলায় এই আইসিইউ উদ্বোধন হয়েছে, যার মধ্যে গোপালগঞ্জও রয়েছে। ২০২০ সালে যারা এসব ভুয়া যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা তাদের বিচার চাই। গোপালগঞ্জবাসী গত ছয় বছর কেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত হলো? বিগত সরকার কী করেছে? কেন এই ছয় বছর আইসিইউটি চালু করা হয়নি?
এমপি ডা. বাবর আরও বলেন, আমি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ভেন্টিলেটর মেশিন এনে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউটি চালু করব, যাতে গোপালগঞ্জবাসী পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা পায়।
তবে এ বিষয়ে ডা.অসিত মল্লিকের মুঠোফোনে বলেন, এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ডিজি অফিস থেকে। এটা শুধু গোপালগঞ্জ নয় সারা দেশেই হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে পিডির মাধ্যমে। এখানে আমার বা লোকাল কোনো অফিসারের হস্তক্ষেপ ছিল না।
হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, মুমূর্ষু রোগীদের লাইফ সাপোর্টের জন্য ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ ১০ শয্যার আইসিইউর যাবতীয় মালামাল ২০২০ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে ক্রয় করা হয়। এগুলো একদিকে যেমন নিম্নমানের, অন্যদিকে দীর্ঘদিন যন্ত্রগুলো ফেলে রাখায় এখন একদমই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আইসিইউ ওয়ার্ডটি সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখার জন্য যে পরিমাণ দক্ষ জনবল দরকার, বর্তমানে তাও পর্যাপ্ত নেই।
