
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

১৯৭৮ সালের ২৭ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান এসেছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অংশ নিয়েছিলেন জনসমাবেশে। তার ঠিক ৪৮ বছর পর একই মাঠে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) তার এই আগমনে স্থানীয় বিএনপি নেতারা যেমন আনন্দিত, পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উচ্ছ্বসিত।
বিএনপির প্রবীণ অনেক নেতা ও শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় প্রবীণরাও স্মৃতিকাতর। তারা ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শ্রীমঙ্গলে আগমন ও সমাবেশের স্মৃতিচারণ করছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াকুব মিয়া বলেন, ’১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রীমঙ্গল সফরে আসেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের (বিটিআরআই) গেস্ট হাউজে ওঠেন। সেখান থেকে তিনি গোপলা নদী ও বিলাছড়ার মধ্যের অংশে একটি খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেন। এখনকার মতো তখন এত বেশি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না। তখন জনবসতিও অনেক কম ছিল। তবুও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।’
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বলেন, ’আমার তখন ১৩ বছর বয়স। আমি ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তাম। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেদিন শ্রীমঙ্গলে আসেন, সেদিন আমরা স্কুল থেকে সবাই মিলে গোপলা নদীতে খাল খননে গিয়েছিলাম। এখনকার মতো তখন এত বাস বা অনান্য যানবাহন ছিল না। দুই তিনটি বাস মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কে চলতো, সেই বাসগুলোকে রিকুইজিশন করে এবং বিভিন্ন চা বাগানের জিপ, ট্রাক্টর নিয়ে সবাই খাল খনন কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিই। যখন রাষ্ট্রপতি এসে পৌঁছান এবং মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তখন উনার গাড়িবহরে হাজার হাজার মানুষ ছিল। সে এক দেখার মতো দৃশ্য ছিল।’
আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে অংশ নেবেন এবং সেখান থেকে তিনি মির্জাপুর ইউনিয়নের সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।
পাশাপাশি তিনি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জনকে জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা ও নৃগোষ্ঠীর ৫ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসনের জন্য ৫ জন চা শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দপত্র তুলে দেবেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উনার পিতার পদাংক অনুসরণ করেই এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তিনি নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলেন, বিএনপিকে এই অঞ্চলের মানুষ ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিলে তিনি তাদের জন্য সর্বোচ্চ উন্নয়নের চেষ্টা করবেন। নির্বাচিত হওয়ার চার মাসের মাথায় তার এ সফর মূলত তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রতি তিনি কতটা নিষ্ঠাবান তারই প্রতিফলন।’
