শুক্রবার ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফেরার রায় বহাল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে যাচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এখন হাটবাজার চট্টগ্রাম বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত ৩ দিনে বিপৎসীমা অতিক্রম করবে তিস্তা, ১২ জেলায় বন্যার আভাস সংসদে নিষ্প্রভ জামায়াত, এমপিদের ভূমিকায় বিব্রত শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে পাহাড়ধসের বিভীষিকা, একরাতেই প্রাণ গেল ৯ জনের জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
Advertise with us

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে যুদ্ধ শেষ করার বিকল্প কমে আসছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে যুদ্ধ শেষ করার বিকল্প কমে আসছে?

কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বলে আসছে যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ধারাবাহিক হামলা ইরানের কমান্ড কাঠামোকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং তাদের পাল্টা হামলার ক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে। খবর বিবিসির।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাত এখন শেষ হওয়ার দিকে এগোনো উচিত। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটাই ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি দ্রুততর এবং আরও তীব্র হয়েছে আর কমেছে যুদ্ধ শেষ করে বেরিয়ে আসার স্পষ্ট উপায়।

শনিবার জানা গেছে, ইরান তাদের দেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরত্বে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ঘাঁটির দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্বীপে পৌঁছতে পারেনি, তবে এই ঘটনায় ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতদিন বিশ্বাস করা হতো যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা বৃদ্ধি কি তারা আগেই ঘটিয়েছিল, যা অজানা থেকে গিয়েছিল, নাকি বোমাবর্ষণের সময়ে তারা এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে, যাই ঘটে থাক, এর তাৎপর্য একই : সামরিক চাপ ইরানের অগ্রগতি থামাতে পারেনি।

যদি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি বা আরেক শীর্ষ নেতা আলী লারিজানি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসির কমাণ্ডাররা এবং সামরিক বাহিনী চিফ অফ স্টাফের মতো নেতৃত্ব যদি নিহতই হয়ে থাকেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানে অভিযান কার নির্দেশনায় চলছে? কীভাবেই বা এই চাপের মধ্যে ইরান তার সক্ষমতা বজায় রাখছে?

একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকেই অনিশ্চয়তার শুরু। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্য যে হামলায় নিহত হন, সেই হামলাতেই বেঁচে যাওয়া মোজতবা খামেনি এরপরে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষিত হন। তবে এখনও পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। দুটি লিখিত বার্তা ছাড়া তার কাছে থেকে কিছুই শোনা বা দেখা যায়নি।

তার অবস্থা যেমন এখনও অস্পষ্ট, তেমনই তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা কতটা, সেটাও পরিষ্কার নয়। কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের ওপরে নির্ভরশীল একটা কাঠামোয় এই নীরবতা ক্ষমতার একেবারে কেন্দ্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

দুই পক্ষের কাছেই বিকল্প সীমিত হয়ে আসছে?
আলোচনার মাধ্যম সীমিত হয়ে আসায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছেও বিকল্প কমে আসছে। এর পরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে কৌশলগত লাভ খুব কমই হবে বরং হামলা-পাল্টা হামলার ফলে ধ্বংসলীলা চলতে থাকবে দুই পক্ষেরই। তখন সামনে মাত্র কঠোরতম বিকল্পগুলোই খোলা থাকবে।

ইরানের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন। দেশটি আগে থেকেই অর্থনৈতিক চাপে ছিল, তা নিয়ে ব্যাপক অস্থিরতাও চলছিল, তার মধ্যেই তারা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের ফলে সেই অভ্যন্তরীণ চাপটা আপাতত কমেছে এবং কর্তৃপক্ষকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার সুযোগ এনে দিয়েছে।

এটি আবার একটি কঠিন ভারসাম্য তৈরি করেছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে ইরানের পক্ষে বহিরাগত হুমকির মোকাবিল করা যেমন সহজ হবে, তেমনই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও তারা সামলাতে পারবে। তবে একই সঙ্গে সেখানে ব্যয়বহুল ভুল করার ঝুঁকিও আছে।

উভয় পক্ষের কাছেই এখন বিকল্প সীমিত। ইরান সহজে পিছিয়ে আসতে পারবে না, সেক্ষেত্রে প্রমাণ হয়ে যাবে যে তারা দুর্বল। আবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলও শুধুমাত্র আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনো নির্ণায়ক ফলাফল অর্জন করতে পারবে না।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়