সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১৩ মার্কিন ঘাঁটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১৩ মার্কিন ঘাঁটি

ইরানের হামলায় এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনারা এখন অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালায় ইরান।

তাদের দাবি, ঐ অঞ্চলে বহু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বারবারই ইরানের দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবে মার্কিন সেনা এবং বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ইরান। এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলা করেছে ইরান। অন্য দিকে, সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তারা যদি আমেরিকা এবং ইসরাইলকে সহযোগিতা করে, তা হলে তাদেরও রেহাই করা হবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরাক এবং আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সেনাঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল আমেরিকা। কিন্তু এই হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আটকানোর মতো পরিকাঠামো ছিল না ওই সেনাঘাঁটিগুলোতে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেও পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা মোতায়েন করা জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহে এসে অঞ্চলটিতে মার্কিন উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরইমধ্যে বিমান হামলায় ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বর্তমানে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মেরিন বাহিনী ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তিনটি প্রধান বাহিনী মোতায়েন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ, বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী। এসব বাহিনীতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার সেনা যুক্ত হয়েছে। ত্রিপোলি গ্রুপে প্রায় দুই হাজার ২০০ মেরিন সদস্য রয়েছে, যারা আকাশ ও সমুদ্রপথে দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম। অন্যদিকে, বক্সার গ্রুপেও প্রায় একই সংখ্যক মেরিন ও নৌসদস্য রয়েছে। আর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো স্থানে স্বল্প সময়ের মধ্যে মোতায়েনের সক্ষমতা রাখে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ফলো করুন দেশবার্তা-এর খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মো: সামসুদ্দীন চৌধুরী
সম্পাদকীয় কার্যালয়